মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১০-১১-২০১৮ Time:৫:৪৫ অপরাহ্ণ


শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক: আজ ১০ নভেম্বর, ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেন নূর হোসেন।

নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে। এ দিনে হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন।

তার বুকে-পিঠে লিখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। পরে জিপিও’র সামনে জিরো পয়েন্টের (বর্তমান শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার) কাছে গুলিতে শহীদ হন তিনি।

শহীদ নূর হোসেনের মহান আত্মত্যাগের এই দিনটি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। সে সময় তার জীবন উৎসর্গ করার ঘটনা গণতন্ত্রের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে।

নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। এরপর থেকে প্রতিবছর ১০ নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ নূর হোসেন দিবস পালিত হয়ে আসছে।

নূর হোসেনের পৈত্রিক বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাতবুনিয়া গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের পর তার পরিবার ঢাকায় চলে আসে। তার বাবা মুজিবুর রহমান অটোরিকশা চালক। মা মরিয়ম বিবি ছিলেন গৃহিণী। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণির পর নূর হোসেনের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাবার পথ ধরে মোটরচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তারুণ্যে পা দিয়েই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১৯৮৭ সালের ওইদিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫-দলীয় ঐক্যজোটের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন ছাড়াও যুবলীগের আরেক নেতা নূরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটো শহীদ হন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এ দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সাহসী পুরুষ শহীদ নূর হোসেন দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য দলের সব সহযোগী সংগঠন সমূহের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে শহীদ নূর হোসেনসহ আরো অনেকের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ১০ নভেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ কর রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি শহিদ নূর হোসেন দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি নূর হোসেনসহ গণতন্ত্রের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদকে।’

রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী নূর হোসেনসহ সকল শহিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। তিনি নূর হোসেনসহ সব শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, আলোচনা সভা, সেমিনার প্রভৃতি।