ভুল-ভ্রান্তি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী

ভুল-ভ্রান্তি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী
ভুল-ভ্রান্তি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, গত দশ বছরে সরকার পরিচালনায় নিজের কিংবা দলের ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কথায় না, কাজে বিশ্বাস করি। তাই গত কয়েক বছরে আমরা দায়িত্ব পালনকালে যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে দলের প্রধান হিসেবে সবার পক্ষ থেকে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করছি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা শেষে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, বাবা-মাকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধুমাত্র এদেশের জনগণের জন্য। এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে উন্নত জীবন পায় এবং যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই দুই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যদি এ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হবে গ্লানিকর।

এ সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দিন, আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দেবো। এটা জাতির কাছে আমাদের ওয়াদা। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস ৩০ তারিখে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।’

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসব অঙ্গীকারের মধ্যে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি- আমার গ্রাম-আমার শহর; যেখানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

ইশতেহারের বাকি অঙ্গীকারগুলো হচ্ছে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ; নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ; পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা; সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল; মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা; সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দারিদ্র্য নির্মূল; সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি; নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা; প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচি।

এর আগে ইশতেহার ঘোষণার আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।