মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৬-০২-২০১৯ Time:৬:১৬ অপরাহ্ণ


জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দের জন্য কংগ্রেসকে এড়াতে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি আইনী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন এবং নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতখানি হবে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মেক্সিকো থেকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে মাদক, অপরাধী এবং অবৈধ অভিবাসীর ঢল ঠেকিয়ে দেশকে সুরক্ষিত রাখতেই জরুরি অবস্থার আদেশে সই করেছ আমি। কেননা সীমান্ত স্বাভাবিক রাখতে দেয়াল কাজে আসবে।

জরুরি অবস্থা জারির ফলে ট্রাম্প সামরিক কিংবা দুর্যোগ খাতের মতো বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ দেয়াল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিতে পারবেন। এদিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ। আর ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার বড় ধরনের অপব্যবহার এবং বেআইনি আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শ্যুমার। এক বিবৃতিতে তারা জানান, জরুরি অবস্থা চ্যালেঞ্জ করা হবে কংগ্রেসে। আর এ ঘোষণার কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ।

ক্যালিফোর্নিয়া আটর্নি জেনারেল জেভিয়ের বেচেরা বলেন, তিনি এটা করতে পারেন না। দেশ কোন সঙ্কটে নেই যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। আমরা খুব দ্রুত আইনি ব্যবস্থায় যাব।

সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারীরাও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা দেয়াল নির্মাণে সমস্যা আরো বাড়বে বলে জানান।

বসবাসকারীরা বলেন, আমরা মনে করি দেয়াল নির্মাণ কোনো সমস্যা সমাধান করবে না। এটা সমস্যা আরও সৃষ্টি করবে। এখানকার পরিস্থিতি অনেক ভালো। তারপরও তিনি দেয়াল নির্মাণ করতে চাচ্ছেন যা অপ্রয়োজনীয়।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প সামরিক খাতের নির্মাণ প্রকল্পের ৩৬০ কোটি ডলার, মাদকবিরোধী প্রকল্পের ২৫০ কোটি ডলার, এবং ট্রেজারি বিভাগের ৬০ কোটি ডলার দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ দিতে পারবেন। আর এর সঙ্গে যোগ হবে বৃহস্পতিবার রাতে কংগ্রেসের পাস করা ১৩৭ দশমিক ৫ কোটি ডলারের প্যাকেজ। সব মিলে দেয়াল নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের হাতে চলে আসবে প্রায় ৮শ’ কোটি ডলার। যদিও সীমান্তের ২ হাজার মাইল জুড়ে দেয়াল নির্মাণের মোট খরচ ২ হাজার ৩শ’ কোটি ডলারের তুলনায় এ তহবিল অনেকটাই কম। তবে কংগ্রেসের কাছে ট্রাম্প দেয়ালের জন্য যে ৫৭০ কোটি ডলার চেয়েছিলেন তার তুলনায় এ তহবিল বেশি।