পাকিস্তান সীমান্তে ১৪০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের মহড়া

পাকিস্তান সীমান্তে ১৪০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের মহড়া
পাকিস্তান সীমান্তে ১৪০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় সিআরপিএফ-এর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এর জেরে পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৪০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে শক্তিশালী সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এর আগে ভারত পাকিস্তান থেকে নিজেদের কুটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর পরিকল্পনা হিসেবে এ মহড়া চালিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

পাকিস্তান অথবা পুলওয়ামা হামলার কথা উল্লেখ না করে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল বীরেন্দ্র সিংহ ধনোয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোনো সময় উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বিমানবাহিনী।’

বিমানবাহনীর প্রধান আরও বলেন, ‘আমি গোটা জাতিকে আশ্বাস দিয়ে বলতে চাই ভারতীয় বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ও প্রতিজ্ঞা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে।’

সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ মহড়া চালিয়েছে। জরুরি নির্দেশনায় যাতে বিমানবাহিনী সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতসহ মিশন পরিচালনা করতে পারে তা নিশ্চিত করতেই এই মহড়া চালিয়েছে তারা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী ওই মহড়ায় লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট ‘তেজা’, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ছাড়াও ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিমান ‘আকাশ’ এবং আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে সক্ষম বিমানও ছিল। এসব যুদ্ধবিমান ছাড়াও আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা করতে সক্ষম উন্নতমানের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মহড়া চালায় বিমানবাহিনী। বিমানবাহিনীর এই মহড়ায় সুখোই-৩০, মিরেজ-২০০০, জাগুয়ার, মিগ-২১, বিসন, মিগ-২৭, মিগ-২৯, আইএল৭৮, হারকিউলিস এবং এএন-৩২ নিয়ে মোট ১৩৭টি বিমান ছিল।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ-এর গাড়িবহরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালায় জঈশ-ই-মোহাম্মদ। এতে ৪৪ জন সেনা নিহত হন। ঘটনার জেরে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশ পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত তলবের পর ভারত পাকিস্তান থেকে নিজেদের কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়। এবার পাকিস্তান সীমান্তে ১৪০টি বিমান নিয়ে মহড়া চালালো দেশটির বিমানবাহিনী। হামলার পর সেনাবাহিনীকে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। এছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর সম্মানসূচক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকারও মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন।