মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৫-০৩-২০১৯ Time:৬:১০ অপরাহ্ণ


জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্লাটফর্ম ছিল বাকশাল: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে যেখানে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হবে। এই ঐক্যের মধ্যে দিয়ে সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। সেখানে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে। অর্থাৎ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী থেকে শুরু করে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী- সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে এসে একটা প্লাটফর্ম দাঁড় করিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে তিনি কাজ করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিয়াত্তরে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগও জয়লাভ করে। মাত্র ৯টি সিট তখন আওয়ামী লীগের বাইরে অন্যরা পেয়েছিলেন। তারপরও বঙ্গবন্ধু অন্য রাজনৈতিক দলগুলো, যারা কখনো নির্বাচনে হয়তো জয়ী হতে পারে না তাদের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার উদ্যোগটা ছিল জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা, যার শুভ ফলটা কিন্তু মানুষ পেতেও শুরু করেছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছিল ওই ’৭৫ অর্থবছরে। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি শুধু না, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু জাতির পিতার এই অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে ৭৫-এ আঘাতে স্বাধীনতা বিদ্রােহীরা।’

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরেও যারা পরাজিত শক্তি তাদের দোসর, আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা; সেখানে স্বাধীনতাবিরোধীরা মূলত এমন কিছু ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায় যেটা তাকে (বঙ্গবন্ধু) কঠোরভাবে সামাল দিতে হয়েছে। আবার সেই সঙ্গে যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল আমরা যাতে স্বাধীনতা অর্জন করতে না পারি, তাদের চক্রান্ত কিন্তু থেমে যায়নি।’

তিনি বলেন, তাদের এই চক্রান্তের ফলে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ হয়, দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত আসে, পাটের গুদামে আগুন, থানা লুট করা থেকে শুরু করে আমাদের আওয়ামী লীগের প্রায় সাতজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকেও হত্যা করা হয়। এমন একটি অবস্থার মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাড়াতে হবে এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই চিন্তা থেকে তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ যেটাকে সংক্ষিপ্ত আকারে বাকশাল নামে পরিচিত করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে সেটা ছিল সব দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করে অর্থনৈতিক মুক্তির অর্জনটা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার জন্য আমাদের যতগুলো মহকুমা ছিল সেই মহকুমাগুলোকে তিনি জেলায় রূপান্তর করেন। আমাদের মাত্র ১৯টি জেলা ছিল, সেখানে তিনি ৬০টা জেলা করেন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী যারা, যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং তাদের যে দোসর। আন্তর্জাতিকভাবে তাদের যে সমর্থক, তাদের মধ্যে একটা বিরাট চক্রান্ত কাজ করেছিল। যখন তারা দেখলো এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হবে, স্বাবলম্বী হবে আর বাংলাদেশকে কখনো থামিয়ে রাখা যাবে না- ঠিক তখনই তারা তাদের চক্রান্ত শুরু করলো।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে পদক বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ী ১২ জন ব্যক্তির হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারের (বিআইএনএ) পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পদক গ্রহণ করেন।




টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
একনেকে ৭ প্রকল্পের অনুমোদন
স্বার্থানেষীরা রোহিঙ্গাদের খারাপ কাজে লাগাতে পারে, শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর
ফেনীর সেই ছাত্রীর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে আবেদন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টেলি সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না আমরা: প্রধানমন্ত্রী
ফুটবল খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী
রমজানে দ্রব্যমূল্যে না বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর