শিল্পায়নের জন্য ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর সেই ছাত্রীর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শিল্পায়নের জন্য ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিল্পায়নের জন্য যেমন জমি দরকার তেমন-ই কৃষিকাজের জন্যও জমি দরকার। তাই শিল্পায়নের কারণে যেন কৃষি জমির কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। ফসলি জমি আমি নেবো না।

তিনি বলেন, মিরসরাই ইকোনমিক জোন চরাঞ্চলে হচ্ছে। সেখানে কোনো ফসলি জমি নেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও কোনো কার্যক্রমে ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না।

বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. ফখরুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, সেই মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য না। এক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের যেনো কষ্ট না হয়। সে দিকে নজর দিতে হবে।

তাই জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে কি-না এ বিষয়ে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিল্পায়ন কোথায় হবে, কীভাবে হবে সেই জায়গা আমরা ঠিক করে দেব। যত্রতত্র কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না। তিন ফসলের জমি সেগুলো নষ্ট হবে না। আমরা গবেষণা করে করে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো শুরু করেছি। বাংলাদেশকে আমাদের ক্ষুধামুক্ত করতে হবে, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন আমাদের বাড়াতে হবে।’

যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের জমির তিনগুন দাম দেয়া হচ্ছে। আর তারা টাকা তো পাবে-ই তাদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। পাশাপাশি তাদের ছেলে-মেয়েকে ওইসব ইকোনমিক জোনের কোম্পানি-কারখানায় চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, আপনারা দেশের অর্থেনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করবেন। আর এগুলোর সবকিছুর মূলে রয়েছে কর্মসংস্থান।বিদেশিরা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার। এর ফলে দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে তরুণদের বেকারত্ব অনেকটাই দূর হবে।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চলনায় মীরসরাই প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

এ সময় ফেনীর স্থানীয় সংসদ সদস্য লে. জে. (অব.) মাসউদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনী অর্থনৈতিক জোন নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’সহ ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন ও ১৩টির অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ১৬ টি বাণিজ্যিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০টি শিল্প কারখানার ভিত্তিস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে আরও ৫ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।