বসন্তের মাতাল সমীরণে প্রেম তো জাগবেই

শোন গো দখিনো হাওয়া, প্রেম করেছি আমি/লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি/মনেতে লুকানো ছিল সুপ্ত যে পিয়াসা/জাগিল মধু লগনে বাড়ালো কি আশা/উতলা করেছে মোরে, আমারি ভালোবাসা…।’

বসন্তের মাতাল সমীরণে মনে প্রেম তো জাগবেই। আর এমন গান কণ্ঠে উঠবেই প্রেম পিয়াসির। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

শুধু যে প্রেমিক যুগল এদিনে একত্রিত হয়েছেন তা নয়, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে আয়োজন করেছে বসন্ত-প্রেম বন্দনার।

ভালোবাসা নিয়ে অনেক কবিতা আর গান আজ মুখে মুখে মনে মনে আবৃত্তি ও গীত হবে। আজ প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই রচনা করবে নিজেদের ভবিষ্যত।

আজ মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে ছোট ছোট কথায় গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের সোপান। চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, প্রিয় উপহার, অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন বিনিময় চলবে প্রিয়জনের সঙ্গে।

আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসায় আপ্লুত হবেন সবাই।

নগরের আন্দরকিল্লায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগর ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এলো প্রাণে’ স্লোগানে বোধন বসন্ত উৎসবেও ছড়িয়েছে ভালোবাসার রং।

বোধন আবৃত্তি পরিষদের বসন্ত উৎসব এ বছর ১৫ বছরে পদার্পণ করছে। বিকালে বসন্ত বরণ শোভাযাত্রা, আবৃত্তি, কথামালা, সঙ্গীত, নৃত্য, যন্ত্র সঙ্গীত, ঢোল বাদন ও পিঠাপুলির সমারোহে দিনব্যাপী এ উৎসব সাজানো হয়েছে। সকালে উৎসব উদ্বোধন করেন অধ্যাপক রীতা দত্ত।

হলুদ-লাল রঙের শাড়ি পড়ে আর মাথায় হলুদ গাঁদা ফুলের মালা প্যাঁচিয়ে মালিহা, দুর্দানা, প্রিয়ন্তী, মেঘা, মহিমা সহ বান্ধবীরা মেতেছেন আনন্দ উৎসবে। কখনও নেচে আবার কখনো গেয়ে চলছে বসন্ত বরণ।