চট্টগ্রাম মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় আতশবাজির শব্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঘটনার পর সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন।

মহসিন কলেজে সক্রিয় ছাত্রলীগের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ প্রথমে কথা কাটাকাটি, এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ধাওয়া দিয়ে দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী কাজী নাঈম বলেন, ‘মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন নেত্রী। সেটা নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করা হয়েছে। বহিরাগতদের এনে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তখন আমরা প্রতিবাদ করেছি। এরপর তারা আমাদের ওপর হামলা করে।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত মায়মুন উদ্দিন মামুন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব চলছে। মেয়র গ্রুপের কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসেছিল। এসময় ফেসবুকে মেয়রের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

তারপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ইটের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়। চকলেট বাজি ফোটানো হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।’l

চকবাজার থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘মেয়র ইলেকশন নিয়ে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়। তারপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে বসন্ত বরণ উৎসবে দুটি আতশবাজি ফোটানো হয়। সেটা নিয়ে একপক্ষ আবার উত্তেজনা ছড়ানো শুরু করে। আমরা এখন ক্যাম্পাসে আছি। এখন কোনো সমস্যা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘মেয়র নির্বাচনে মনোনয়ন তো আর মহসিন কলেজের ছাত্ররা দেননি, সেটা দিয়েছেন আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কলেজ ক্যাম্পাসে কেন এটা নিয়ে মিছিল করতে হবে, বুঝতে পারছি না। আমরা শুনেছি, বহিরাগতরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে গেছে। আমরা তাদের গ্রেফতারের দাবি করছি।