স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারনে আতঙ্কে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তরা

দলের মনোনয়নবঞ্চিতরা ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকায় দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থীরা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন। প্রতিটি দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলের প্রার্থীরা জয়ী হওয়া এবং যোগ্যতার বিবেচনা হিসাব করাসহ নানাবিধ প্রশ্ন উঠে আসছে তৃণমূল ভোটারদের মাঝে।

প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। দলের প্রার্থীর বাইরে পুরুষ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে যারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন, তাদের ওপর নির্ভর হতে পারছেন না ‘খোদ’ আওয়ামী লীগের নেতারাও। কারণ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেকেই ফরম জমা দিয়েছেন।

দল মনোনয়ন দিলেও এখনো পর্যন্ত পথের কাঁটাই থেকে গেল অধিকাংশ ওয়ার্ডেই। অন্যদিকে বিএনপি থেকেও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তবে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও দলীয় বৈঠকে তারা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলেও জানায় বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মেয়র পদে দলের মনোনয়ন না পেয়েও আমার ওপর আস্থা রাখলেন, দল তাদের এই ত্যাগের মূল্য দেবে কোনো না কোনোভাবে।

কাউন্সিলর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা দলীয় ব্যাপার। দল তাদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে হয়তো। মেয়র পদে সবাই একত্রিত হয়ে নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির বলেন, মেয়র পদে আমি নিজেও মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছি।

কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। কাউন্সিলর পদে যারা বিদ্রোহীর চিন্তা করছেন, তাদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত ছিল। তবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

১১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী বলেন, নির্বাচন করার ব্যাপারে তিনি অটল আছেন এখনো। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে জনবিচ্ছিন্ন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষ মেনে নিচ্ছেন না। তারা নির্বাচন করতে চাপ দিচ্ছেন। তবে এটি যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি।

দলীয় ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চসিক নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বর্তমান কাউন্সিলর দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও প্রায় ১৯ জন বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে কমিশনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫ জন বর্তমান কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেন। যারা দলের মনোনয়নপত্র পাননি, তাদের মধ্যে অনেকের স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রয়েছে নানাবিধ বিতর্কও।

তারা দলের মনোনয়নপত্র না পেলেও বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র হিসেবে এবারও নির্বাচন করছেন।

তারা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ডে তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সাহেদ ইকবাল বাবু, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জহুরুল আলম জসিম, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সাবের আহমেদ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল ফজল কবির আহমদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে এস এস এরশাদ উল্লাহ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে এইচ এম সোহেল, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল কাদের, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তারেক সোলেমান সেলিম, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জয়নাল আবেদীন।

তাছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন বঞ্চিত বর্তমান কাউন্সিলররা হলেন- সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড) জেসমিন পারভীন জেসি, সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড) আবিদা আজাদ, সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (১৬, ২০ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড) আঞ্জুমান আরা বেগম, সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে (১২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড) ফারহানা জাবেদ, সংরক্ষিত ১১ নম্বর ওয়ার্ডে (২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড) ফেরদৌসি আকবর।

প্রসঙ্গত. আগামী ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মার্চ।

এছাড়া ৯ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

তাছাড়া ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকায় বিজয়ী হয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় তখন ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতে বিএনপি ও একটিতে বিজয়ী হয়েছিল জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী।