বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকীতে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজধানী

মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠানকে ঘিরে আজ সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানী ঢাকা মহানগরী রঙিন হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোসহ ব্যাংক-বীমা সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিজাত হোটেল, নগরের অলি-গলিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর কার্যালয় বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

রাস্তার দু’পাশ ও মোড়ে-মোড়ে শোভা পাচ্ছে বিদ্যুৎ-বাল্বের বাহারি রংয়ের আলোর ঝলকানি।

আগামীকাল ১৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন।

এ দিনটিকে সামনে রেখে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।

এদিকে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালনে করবে গোটা দেশ।
করোনা ভাইরাসের কারণে ইতোপূর্বে গৃহীত নানা আয়োজনে পরিবর্তন আনা হলেও আগামীকাল মঙ্গলবার মূলমঞ্চের আতশবাজির অনুষ্ঠান ঠিক রয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যা রাত থেকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থাপনা। এজন্যই রাজধানী ঢাকা এখন রূপ-নিয়েছে আলোর নগরীতে।

নগরীর প্রধান সড়ক, স্থাপনাগুলোয় শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের আলো। বর্ণিল আলোকসজ্জায় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। বাদ যায়নি রাস্তার মোড়, ল্যাম্পপোস্টও। নগরবাসিও বেশ উপভোগ করছেন এমন দৃশ্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টির কথা।

মুজিববর্ষের সকল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে এমনটাই প্রত্যাশা আলোকসজ্জা দেখতে আসা দর্শনার্থী ও আয়োজকদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক, স্থাপনা, অফিস-আদালত।

সোমবার সন্ধ্যার পরই লাল-সবুজের আলোতে ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো রাজধানী। চোখ ধাঁধানো এ আলোকসজ্জার ঝলকানিতে মন কেড়েছে সবার।
রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল, পল্টন, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিভিন্ন রঙের ও বর্ণের এসব আলোকসজ্জা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংক ভবনেও শোভা পাচ্ছে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা।

এ ভবনে বিদ্যুৎবাতি-ঝলমলিয়ে ফুটে উঠছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, সামনে স্মৃতিসৌধ, একপাশে অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধারা অন্যপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীকী ছবি।

এছাড়া মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় সোনালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, জীবন বীমা ভবনসহ বড় বড় স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাস্তার দু’পাশের গাছে গাছে বাহারি আলোকরশ্মি।

সাদা, লাল, নীল, সোনালী হরেক রঙের মরিচবাতি।
নতুন সাজে সংসদ ভবন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ ভবন সেজেছে নতুন সাজে।

সংসদ ভবনের পুরো এলাকায় বিভিন্ন রংয়ের আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। তাই পাল্টে গেছে সংসদ ভবন এলাকার চিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকীতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘পিক্সেল ম্যাপিংয়ে’ ভেসে উঠছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।

এছাড়া লেজার শো’র মাধ্যমে ভেসে উঠছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। সংসদের লেকের মাঝখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই আঙুল উঁচিয়ে দেয়া ভাষণের প্রতিচ্ছবিও লেজার শোর মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।

এছাড়া সংসদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার।

উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানে ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাগুলো তুলে ধরা হবে। এরইমধ্যে সংসদ ভবনের লেকের পাড়ে প্রতিটি দেয়ালে লাইটিংয়ের মাধ্যমে নৌকার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে।