প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পোশাক কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত

রাজধানীর শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত সরকার, গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রফতানি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করছে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শ্রমিকরাও কারখানায় কাজ করতে অনিচ্ছুক। সামনে দুই ঈদের বোনাস ও বেতন রয়েছে। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কী করা হবে সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী।

শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিজয়নগরের শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, যে কোনও পরিস্থিতিতেই শিল্পের চাকা সচল রাখতে হবে।

তবে করোনা নিয়ে বিশ্বময় এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আগামী মঙ্গলবার একটি বৈঠকে বসবেন তারা। সে বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন সবাই।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় রবিবার (২২ মার্চ) শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আর গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ নেতারা বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে সংকট মোকাবিলায় আর্থিক প্রণোদনার বিষয়ে আলোচনা করবে।

এরপর সোমবারের (২৩ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে সামগ্রিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে শিল্প কারখানা বন্ধ না করে বরং শ্রমিকদের আরও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন শিল্প মালিকরা। তারা বলেন, কারখানা বন্ধ করলেই সমাধান হবে না।

বরং শ্রমিকদের মধ্যে করোনা প্রতিরোধের সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ১০০ জনের কাজ ৫০ জন দিয়ে করিয়ে হলেও কারখানা সচল রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের পক্ষে মত দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অন্যদের বলেন। তিনি বলেন, এই সংকট কেবল বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের।

বড় বড় ব্র্যান্ডের ক্রেতারা আউটলেট বন্ধ রেখেছে। ক্রেতারা প্রতিদিন অর্ডার বাতিল করছে এ বাস্তবতা মানতে হবে। তিনি বলেন, অনেক কারখানার মালিকরা বলছেন, আর চালাতে পারছি না। লে-অফ ঘোষণা করলে শ্রমিকদের পাওনা দিতে হবে সে টাকাও নেই।

বৈঠকে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম  মুর্শেদী, এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শিল্প পুলিশের ডিআইজি আব্দুস সালাম, শিল্প সচিব কে এম আলী আজম উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে  আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এ মূহুর্তে কারখানা বন্ধ করা যাবে না। কেউ কারখানা বন্ধ করলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কোনও মালিকের সমস্যা থাকলে তিনি যেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ডকুমেন্ট চায়। শিপমেন্টও হচ্ছে না।

শিল্পখাতের প্রণোদনা দিতে কিছু ফান্ড আছে। ওই ফান্ড জরুরিভাবে দেওয়া উচিত। যারা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদেরকে জরুরিভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি অভিমত দেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই পরিস্থিতি কবে শেষ হবে তাও আমরা জানি না।

এই সমস্যা কেবল পোশাক শিল্পের না, সব শিল্পের। তাই সব শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা বলতে হবে।

শ্রমিক নেতা ফজলুল হক বলেন, কোনও অবস্থাতেই কারখানা বন্ধ করা যাবে না। ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কাছে সহায়তা চাইতে হবে।

ক্রেতাদের চাপ দিতে হবে। তারা আমাদের কাছ থেকে বছরের পর বছর ব্যবসা করছে। আর এই বিপদের সময় তারা আবার সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, হতাশ হলে চলবে না, সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ক্রেতাদের চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের ১৪ দিনের হিসেব করলে চলবে না। আমাদের ভাবতে হবে, সামনে দুই ঈদ রয়েছে। মার্চের বেতন রয়েছে। তিন মাসের কথা ভাবতে হবে। মিল-কারখানা বন্ধ করতে হবে এই চিন্তা যেন কারও মাথায় না আসে।