দেশে নতুন করে আরও ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া, সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দু’জন, ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ জন। তবে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ করোনায় দেশে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দুইজনই।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)।

এতে কথা বলেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

সবমিলিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭। এছাড়া আগে আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। এবার নতুন করে আরও দুজন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন নারী, দুজন পুরুষ। দুজন বাইরে থেকে এসেছেন। অপরজন আরেক অসুস্থ রোগীর সংস্পর্শে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাসে এ তিনজন আক্রান্ত হলেও তাদের মধ্যে উপসর্গ মৃদুই দেখা গেছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর হটলাইনে কল এসেছে ৩ হাজার ৮১২টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭২৫টি কল করোনা সংক্রান্ত।

এসময় করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে করণীয় তুলে ধরেন ডা. ফ্লোরা।

এদিকে মিরপুরের ৭৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দা একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

এছাড়া, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সিলেটে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক নারীও মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যফেরত ওই নারীর মুখের লালাসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। কিন্তু এ দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু বলা হয়নি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর।

চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।