তারিন আহমেদের কবিতা/”তারে আমি চোখে দেখিনি “

তারিন আহমেদের কবিতা

“তারে আমি চোখে দেখিনি “

মুক্তিযুদ্ধ মানে মায়ের কাছে বসে গল্প শোনা
যুদ্ধ চোখে দেখিনি পড়েছি বইয়ের পাতায়,
মুক্তিযুদ্ধ মানে আমার কাছেশুধুই কল্পকথা
মনের কল্পনা থেকে সাজানো সব স্মৃতিকথা
শহীদের স্মতিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা।।

::

অনেক সময় ভাবি আমি কি বাঙ্গালি জাতি
বাংলা কি আমার গর্ব, নাকি বিশ্বের কাছে লজ্জা
মাথা তুলে বলতে পারিনা, সাহসী চোখে চাইতে পারিনা,
অধিকার টুকু আমার মতো করে আদায় করতে পারিনা
ছেলেকে শিখাতে পারিনা গর্বিত ;আমি বাঙ্গালি দেখ!
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।।

::

মুক্তিযুদ্ধ মানে আজ সমাজে কিছু বিকৃত ইতিহাস
নেতাদের স্বার্থ নিয়ে টানাটানি, সম্পদ নিয়ে মারামারি,
নিবৃত্তেপড়ে থাকা অসহায় মানুষের খেতে না পাওয়া
ছেলে স্বামী হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ফেরারি হয়ে খুঁজা,
ধনীব্যক্তিরা দেখেও না দেখার মতো ভান করে থাকে
বছরের এই একটি মাস থাকে চারপাশে বড় হৈচৈ।

::

চারপাশে জনসেবা, সমাবেশ, আর আনন্দ উল্লাস
নেতাদের সমাজসেবা, ভাষণের পর ভাষণ শুনি,
এই দিয়ে কি অসহায় মানুষের পেটের ক্ষুধা মরে
গর্জে উঠে মাঝ রাতে অসহায় শিশুর নির্মম কান্না
কানে বেজে উঠে, চোখেরসামনে ভাসতে থাকে
রাস্তার দুপাশে জড় হয়ে থাকা সহায়হীন মানুষ,
গায়ে নেই কোন শীত বস্ত্র, মাথার উপরে নেই ছাদ।

::

মুক্তিযুদ্ধ মানে যদি এই রুপ হয় আজ বাংলায়
তবে কি দরকার ছিল ত্রিশ লক্ষ মানুষের বিসর্জন,
গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে, মায়ের ইজ্জত লুটিয়ে
স্বাধীনতা আর পরাধীনতার মানেটাই আজ বুজলাম না,
ক্ষমতার লড়াইয়ে জন্যে যদি যুদ্ধ হয়ে থাকে দেশে
তারচেয়ে যেমন ছিল আমার এ দেশ তেমনি ছিল বেশ।

::
একটা লাল সবুজ পতাকার জন্যে তো যুদ্ধ হয়নি
লড়েছিল হাজার ও মানুষের স্বাধীনতার জন্যে,
অধিকার না পাওয়া অসহায় মানুষের জন্যে,
স্বাধীনতা মানে আজ বছরে ঘটা করে ফুল দেওয়া
বিশ্বের দরবারে নিজেকে স্বাধীন বলে জাহির করা,
স্বাধীনতা তুমি কত দুরে, পাবো কি আমার নাগালে।

:::::;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;