সন্ধ্যা হলেই জনমানবশূন্য ভূতুড়ে বান্দরবান পৌরশহর

সন্ধ্যা হলেই জনমানবশূন্য ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয় বান্দরবান পৌরশহর। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনীর গাড়ির শব্দ পাওয়া যায়। আর সড়ক ও দোকান, মার্কেটের লাইট বাতিগুলো জনমানবহীন শহরকে আলো দিয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত, শহরে দিনে ও রাতে নেই কর্মচঞ্চলতার রূপ।

৩২ দশমিক ৫৫ বর্গ কিলোমিটার (৮,০৪৩ একর) আয়তনের বান্দরবান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ আশপাশে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই পৌর শহরে ৬-৭দিন আগেও দিনরাত পাহাড়ি-বাঙালি এবং পর্যটকসহ হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম প্রতিদিনেই দেখা যেত। পাহাড়ি জেলা বান্দরবান দেশ-বিদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে উধাও পর্যটক।

জেলার সব পর্যটনস্পটগুলো পর্যটকশূন্য, সড়কগুলো যানবাহনশূন্য হয়ে ফাঁকা পড়ে আছে। দিনে জরুরি প্রয়োজনে গুটিকয়েক মানুষ ঘর থেকে বেরোলেও সন্ধ্যায় চারদিকে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে গত এক সপ্তাহ।

সপ্তাহে রোববার ও বুধবার দুইদিন বসত বান্দরবান সদরের হাটবাজার। দূর্গমাঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালিরা পাহাড়ে, বাগানে ও জমির উৎপাদিত শাকসবজি, ফল বিক্রি করতে এবং পরিবারের জন্য বাজার সদাই করতে চলে আসতো জেলা সদরে, এতে পৌরশহর পরিণত হত বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়। সেই শহর আজ নিরব-নিস্তব্ধ।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের অঘোষিত লকডাউনে ঘরবন্দি হাজারো মানুষ। সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ।

ওষুধের দোকানগুলো সকাল ১০টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও মুদি দোকানগুলোতে বেচাকেনা হচ্ছে কম, ফলে এই পৌরশহর হারিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যতা।রাতে বান্দরবানের দৃশ্যের একাংশ।

সদরের বালাঘাটার বাসিন্দা আবুল মিয়া জানান, পৌর শহরের সুনসান নীরবতা-নিস্তব্ধতা পরিস্থিতি দেখে আমার ৪০-৫০ বছর আগের কথাই মনে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, ৪০-৫০ বছর আগে বান্দরবান শহরে লোক সংখ্যা কম ছিল, উন্নয়ন মানে সুউচ্চ দালানকোটা, দামি গাড়ি, প্রশস্ত রাস্তা, দোকানপাট, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দামি রেস্টুরেন্ট কিছুই ছিল না, তখন সন্ধ্যা হলেই শহর নিরব-নিস্তব্ধ হয়ে যেত, এখন সবকিছু আছে, কিন্তু করোনা রোগের কারণে আজ একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা সদরের বাসিন্দা শহীদুর রহমান বলেন, করোনা রোগ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করেছে, যা ভাবতেও কষ্ট হয়। সবার ঘরে বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে।

শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা ঘরে বসে টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট আর ফেসবুকে নিজের মত করে সারাদিন সময় কাটাচ্ছে, কোথাও নেই কোনো খেলাধুলা, গল্প আর আড্ডা।

তিনি আরও বলেন, শহরে রাজারমাঠ, স্টেডিয়াম, স্কুলমাঠ, এলাকা, পাড়ার মাঠগুলো বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিশোর, তরুণ ও যুবকেরা খেলাধুলায় মগ্ন থাকলেও এখন ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

তরুণ থেকে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত সবার মুখে এখন একটিই কামনা সৃষ্টিকর্তা যেন দ্রুত করোনা ভাইরাস ও এই বন্দি পরিস্থিতি থেকে সবাইকে মুক্ত করে দেয়।

এদিকে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা বলেন, দেশে অনেকস্থানে করোনার রোগী পাওয়া গেলে ও বান্দরবানে কোনো করোনার রোগী শনাক্ত হয়নি।

বিভিন্ন সময়ে বান্দরবানে বিদেশফেরত প্রবাসীদের বান্দরবানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে বান্দরবানে ১৫২ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সাময়িকভাবে সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।