কেউ পেটের দায়ে, আর কেউ আড্ডা দিতে রাস্তায়!

আজ বিকাল ৫ টা, নগরীর বহদ্দার হাট মোড়। সড়কজুড়ে সারিবদ্ধ রিকশা। দূর থেকে কেউ আসতে দেখলে তার কাছে যাচ্ছেন তারা। দামাদামি নয়, যেখানে যেতে চান সেখানে নিয়ে যাচ্ছেন রিকশাচালকরা। বিনিময়ে যাত্রী যা দেন, তাই নিচ্ছেন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে  ঘরে থাকার নির্দেশনা আসার পর দুই দিন বের হননি। এ দুই দিন সংসার কোনোরকম চললেও, বাধ্য হয়ে তৃতীয় দিন থেকে রিকশা নিয়ে বের হন তারা। কারণ স্ত্রী-সন্তানরা যে না খেয়ে আছেন।

আগে যেখানে তাদের দৈনিক আয় ৬০০-৮০০ টাকা ছিলো। সড়কে যাত্রী না থাকায়, এখন আয় তাদের সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মাত্র ১৫০টাকা আয় হয়েছে বলে জানান মো. জহির নামে এক রিকশাচালক।

জহিরের বাড়ি কুমিল্লা হলেও এখানে থাকেন আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি এলাকায়। তিনি বলেন, আর কয়দিন বাসায় থাকবো! স্ত্রী সন্তানরা-তো না খেয়ে আছে, তাই বাধ্য হয়ে বের হয়েছি।

তিনি বলেন, ত্রাণ আমরা পাচ্ছি না। যারা ত্রাণ পান তারা সিলেক্টেড। আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনিতে যারা ত্রাণ পাচ্ছেন তারা চলার মতো অবস্থায় আছে। আমরা খেটে-খাওয়া মানুষজন পাচ্ছি না।

মো. আনিছ নামে আরেকজন রিকশাচালক বলেন, মতিঝর্ণা এলাকায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকি। কয়েকদিন-তো ঘরেই ছিলাম, সরকারি-বেসরকারি কোনো পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সাহায্য পেলাম না।

প্রথম দিন যখন বের হয়েছি তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিষেধ করলেও এখন করে না। কারণ তারা বুঝছে, আমরা রিকশা না চলালে না খেয়ে থাকতে হবে।

অলিতে-গলিতে আড্ডা

নগরের বড় বড় মোড়ে মানুষ কম হলেও বিভিন্ন অলিতে-গলিতে কিশোর ও যুবকদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে জিইসি মোড়ের বাটাগলি, লাভলেন, আসকারদীঘির পাড়, কাঁচাবাজার, বড়মিয়া মসজিদ ও বহদ্দারহাট আবাসিক এলাকায় এ চিত্র বেশি।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহল সাধারণত বড় বড় সড়কগুলোতে। এ সুযোগে অলিতে-গলিতে আড্ডায় মেতে উঠছেন তারা।

বাসায় না থেকে আড্ডার বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) আমেনা বেগম বলেন, আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি। প্রয়োজন হলে টহল বাড়ানো হবে।