দামপাড়ার পুরো চিত্রটাই বদলে গেছে

কদিন আগেও দামপাড়ার ১ নম্বর গলিটা ছিল কোলাহল মুখর। আড্ডা দিয়েছে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। খেলাধূলায় মেতেছে শিশুরা। আজ শনিবার পাল্টে গেছে সেই গলির চিত্র। কারণ এক করোনা ভাইরাসে ১ নম্বর গলিই নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দামপাড়ার পুরো চিত্রটাই বদলে গেছে। কারণ এ গলির বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ যিনি আক্রান্ত হয়েছেন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ১ নম্বর গলিতে করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধার তিনতলা বাড়িটিসহ আশপাশের আরও ছয়টি ভবন ‘লকডাউন’ করে দিয়েছে। গতকাল রাত থেকে ভবনগুলো ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে গেলে শুধু ১ নম্বর গলি নয়, পুরো দামপাড়া জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার জনসাধারণকে এতদিন যেসব নির্দ্দেশনা দিয়ে আসছিল দামপাড়াবাসী যেন তা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দামপাড়ার কিছু যুবক ব্লিচিং পাওডার দিয়ে অলিগলি ধুয়ে দিচ্ছেন। বাড়িঘরের প্রবেশপথে শোভা পাচ্ছে হাত ধোয়ার বেসিন ও সাবান। ঝুলে রাখা হয়েছে কাগজে লেখা সাইনবোর্ড। এতে লেখা আছে, সাবান দিয়ে হাত ধূয়ে বাড়িতে প্রবেশ করুন। বহিরাগত বাড়িতে ঢোকা নিষেধ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ, আবু সাইদ, মোহাম্মেদ শাহীন মিলে করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধের বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ১ নম্বর গলির মুখে বাশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছেন। বাশের উপর লাগিয়ে দিয়েছেন লাল পতাকা। আবার কেউ কেউ ব্লিচিং পাওডারযুক্ত পানি দিয়ে গলি ধুয়ে দিচ্ছেন।

দেখা গেছে, পুরো দামপাড়া জুড়ে সুনসান নীরবতা। একদিন আগেও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মানুষ অলিগলিতে গমগম করত। আজ সেসব গলিতে যেন ভুতুড়ে পরিবেশ। আতংকে কেউ বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ লকডাউন করা ছয়টি বাড়ির সামনে পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। তারা ওই ছয়টি বাড়িতে কাউকে ঢুকতেও দিচ্ছেন না, আবার বেরুতেও দিচ্ছেন না।

পুলিশ তারা ফোন করলে টহল পুলিশকে বলে খাদ্যসামগ্রী ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির পাশে লকডাউনের থাকা আরেকটি ভবনের চারজন বাসিন্দার করোনা ভাইরাসের উপসগ দেখা দিয়েছে। আজ তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান এএসআই মিনহাজ।