ওজন কমাতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন!!

ওজন কমাতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি খাবারের পরিমাণের দিকেও নজর দিতে হবে। ঘরে থেকে অলস সময় কাটাতে গিয়ে অনেকেই হয়ত বেশি খাবার খাচ্ছেন। তিন-চারবেলার নিয়মিত খাবারের ফাঁকেও হয়ত চলছে মুখরোচক নাস্তা খাওয়ার ধুম। আর খাওয়া যতটা বাড়ছে, ততটাই শরীরচর্চা দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। স্থূলতা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিবার কতটুকু খাওয়া হচ্ছে সেদিকে আরও কড়া নজর দেয়া জরুরি।

খাওয়া নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি উপায় জানানো হল স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে।

খাওয়ার সময় শুধুই খাওয়া

খাওয়ার সময় স্মার্টফোন, টেলিভিশন, কম্পিউটার ইত্যাদিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অনেকেই। এতে খাওয়ার দিকে পুরোপুরি মনযোগ থাকে না। ফলে ঠিক কতটুকু খাওয়া হয়ে যাচ্ছে তা ঠিক টের পাওয়া যায় না, পেট ভরা অনুভূতিটা বোঝা যায় না। ফলে প্রয়োজনের বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই খাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাওয়ার সময় এসব ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ মনযোগ রাখতে হবে খাওয়ার দিকে।

চামচ দিয়ে খাওয়া

হাত দিয়ে খাওয়ার সঙ্গে স্পর্শীয় ইন্দ্রিয়ের যোগাযোগ স্পষ্ট। আর একারণেই হাত দিয়ে খেলে স্বাদ বেশি উপভোগ করা যায়। যে কারণে খাওয়ার পরিমাণও বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে হাত দিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। খেতে হবে চামচ দিয়ে।

সময় নিয়ে খাওয়া

যে কোনও খাবারই সময় নিয়ে খাওয়া উচিত। এতে খাবারের তৃপ্তি বাড়ে, কম খাবারে পেট ভরে। তাই প্রতিবেলার খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে হবে। ধীরে খেলে পেট ভরার অনুভূতি সৃষ্টিকারী হরমোনগুলো সক্রিয় হয়। তবে দ্রুত খাওয়া সেরে ফেললে হরমোন সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই ধীরে খাওয়ার মাধ্যমে খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খাওয়ার আগে পানি পান

খাওয়া শুরুর আগে একগ্লাস পানি পান করে নেয়া মাধ্যমেও খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে এই পানিটুকু পান করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পক্ষান্তরে ওজন নিয়ন্ত্রণও সম্ভব বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। এই পানিতে ফল, শসা, পুদিনা পাতাও যোগ করতে পারেন, এতে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ও মিলবে।