বিজু ফুল ফুটলেও এইবছর সেই ফুল ভাসলো না পানিতে

নদীর জলে দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে সূচিত হয় নতুন বছরকে বরণ করার মহা আয়োজন। পাহাড়ে প্রকৃতির নিয়মে বিজু ফুল ফুটলেও এইবছর সেই ফুল ভাসলো না পানিতে।

করোনাভাইরাসের কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার পাহাড়ে উদযাপিত হচ্ছে না বৈসাবি উৎসব। পাহাড়ি পাড়াগুলোতে  ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের নেই কোন আয়োজন।

প্রতিবছর চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে পাহাড়ে শুরু হয় চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিনে বাড়িঘর পরিষ্কারের পর নদীতে স্নান করে পরিশুদ্ধ হয় পাহাড়িরা।

এই দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় তারা। তবে এই করোনা দুর্যোগে বাতিল করা হয়েছে  পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্ণাঢ্য র্যা লি এবং মারমাদের পানি খেলা। এই আবার ঘরোয়াভাবে পালিত হবে বৈসাবির সকল আনুষ্ঠানিকতা।

খাগড়াছড়িতে প্রতিবছর বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু বা বৈসাবী  উদযাপনে বর্ণিল আয়োজন হয়ে থাকে। নদীতে ফুল ভাসানো ও বর্ণাঢ্য বর্ণিলসহ নানা আয়োজনে বৈসাবী বরণ করে আদিবাসীরা। এদিন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা পল্লীগুলোতে শুরু হয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী, মাইনী নদীতে দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে ভাসানো হয় ফুল। এইবার বাতিল করা হয়েছে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলাও। দুঃখ ভরা মন নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে অভিজিৎ বড়ুয়া রৌদ্র বলেন, একদিকে করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ ।

করোনার কারণে মানুষের মুখ দেখাদেখি বন্ধ । কীভাবে বৈসাবী করব? আগে থেকেই সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে। বৈসাবী করার কোন সুযোগ নেই। এবার কোন উৎসব হবে না।

রাঙামাটি থেকে রায়া ত্রিপুরা বলেন, প্রায় ৫ বছর হল বৈসুকের সময় নানান ব্যস্ততার জন্য বাসায় থাকা হত না। এবছর ভেবেছিলাম পরিবারের সাথে বৈসুক পালন করব। কিন্তু করোনার জন্য বৈসুক ই পালিত হচ্ছে না।

প্রতি বছর এই দিনে এলাকার নদীতে ফুল ভাসান হত, সবাই নতুন জামা কাপড় পড়ে পাড়ার সকাল বেলা আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেত। গরাইয়া নৃত্য হত, বয়োজৈষ্ঠ্যদের ছোটরা গোসল করিয়ে দিত, আশীর্বাদ নিত, পিঠা বানান হত।

এ বছর এসব কিছুই হয়নি, নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছি। করোনার সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে সীমিত পরিসরে তা পালনের অনুরোধ জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন।

তিনি বলেন, বৈসাবী পাহাড়ের প্রাণের উৎসব।  আমরা মানুষকে সচেতন করছি যাতে কাছাকাছি না আসে। সীমিত পরিসরে উৎসব উদযাপন করে।