পার্বত্য চট্টগ্রামে এবারে ঐতিহ্যবাহী মহা সাংগ্রাইং জলকেলি উৎসব উদযাপিত বর্জন

বিশেষ প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে সহ সারাদেশে নভেল ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব কারনে পার্বত্য চট্রগ্রামের এবারে রাংগামাটি, বান্দরবন খাগড়াছড়ি বসবাসরত জনগৌষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী মারমাদের মহা সাংগ্রাইং জলকেলি খেলা উৎসব বর্জন বা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ জলকেলি ঐতিহ্যবাহী মহা সাংগ্রাইং তিন পার্বত্য জেলাতে মারমা সম্প্রদায় জনগৌষ্ঠীরা প্রতি বছর পালন করে থাকে। কিন্তু এ বছরে নভেল ভাইরাস রোগ সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে এবং সামাজিক দুরুত বজায় রাখার স্বার্থে এই জলকেলী খেলা মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে উৎসব বর্জন করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটি মাসস প ক্ষে সাংবাদিককে জানান,আমরা এবারে পার্বত্য চট্রগ্রামের মারমাদের ঐতিহ্যবাহী জল কেলি খেলা বা মহা সাংগ্রাইং সহ পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ কে বর্জন ও স্থগিত ঘোষণা করেছি। কারণ বর্তমানে নভেল ভাইরাস রোগ সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে।

একদিকে সরকার প্রশাসন ভাবে প্রজ্ঞাপন জারী ঘোষণা করেন কোন ধরনের মিটিং মিছিল বড় ধরনের যেকোন অনুষ্ঠান বিরত বা বন্ধ ঘোষণা করার জন্য অনুরোধ করেন। যেখানে সেখানে দল বল হয়ে জড়ো না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

যদি কেউ অমান্য করেন তাহলে প্রশাসন ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সুত্রে জানা যায়। অন্যদিকে মারমা জনগোষ্ঠী পাড়া গ্রামে পল্লী তে ঘুরে এসে দেখা যাচ্ছে,প্রতি বছর এই দিন আসলে যুবক ও যুবতীরা প্রথমে বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে সকলে গৌতম বুদ্ধের কাছে প্রার্থণা করি।

এর পর বিহারে প্রধানধ্যক্ষকে দলে দলে যুবক যুবতীরা এই নতুন বাংলা নবর্বষ ও মহা সাগ্রাইং পোওয়ে নতুন নতুন নিজের সংস্কৃতি পোষাক পরিধান ঘরে বিভিন্ন ফুল দিয়ে ঘরকে ভরা সাজিয়ে এই দিনে পুরানো বছরকে বিদায় নতুন বাংলা বর্ষ বা মহা সাংগ্রাইং কে বরণ করে নেয়, এতে পাড়াতে গ্রামে দলে দলে যুবক যুবতীরা গুরুজনদেরকে ঠিক এইদিনে নতুন বছরে বা মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে দিনে স্নান করে দেখা যায়।

পাড়া মহল্লা গুরুজন কাছ হতে নতুন বছরে আশীর্বাদ কামনা করেন। এবারে কিন্তু সারাদেশসহ পুরো বিশ্বব্যাপাী নভেল করোনা ভাইরাস রোগে প্রাদুর্ভাব বা আতংকিত দিন যাপন করছে।

তাই সকলে এই রোগ হতে সু স্বাস্থ্য থাকা বেঁচে থাকার জন্য এবারে মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে মারমারা বা বাংলা নর্বষকে বিরত বর্জন করতে দেখা যায়। পাবর্ত্য চট্রগ্রামের বসবাসরত বেশির ভাগ মারমাদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী জল কেলি খেলা বা সাংগ্রাইং পোওয়ে সকলে বড় উৎসব জনপ্রিয় সুপরিচিত হিসেবে পালন করে থাকে।

স্থানীয় হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ কেন্দ্রীয় বিহারে যুবক যুবতী প্রধানরা সাংবাদিককে জানান,আমরা প্রতি বছর এই নতুন বাংলা নববর্ষ ও মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে সময় আসলে বিহারে যুবক যুবতী দলে দলে জড়ো হয়ে বিভিন্ন পিঠা বানিয়ে পাড়াতে পিঠা বিলি প্রদান করে থাকি।

এবারে সারাদেশসহ পুরো বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাস কারনে সব কিছু আমাদের সকল কার্য্যক্রম স্থগিত বা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিজে ও সমাজ জাতি দেশের স্বার্থে এবারে নিজ নিজ ঘরে লংক ডাউন মাধ্যমে উৎসব পালন করা ছাড়া কোন উপায় নেই। এতে সাধারন ভাবে পালন করতে হবে।

যুবত যুবতী কয়েকজন নাম প্রকাশ অনিচ্ছুকরা দু:খের সাথে জানান,আমরা এবারে বছরে একবার নতুন সালে মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে উৎসব আনন্দিত মূ্খরিত পরিবেশ হতে বঞ্চিত হয়েছি। এরকম নতুন বাংলা বর্ষ বা মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে আসলে মারমাদের পাড়াতে যুবক যুবতীদের যে আনন্দ ফিলিংস আসে এবারে নেই বললে চলে।

এবছরে সকলে নিরাবতা পালন করতে হবে। পার্বত্য চট্রগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী রা বসবাস করছে। তার মধ্যে বৈসাবী মানে অর্থ হচ্ছে ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাইং, চাকমাদের বিঝু নামে পালন করে থাকে এবং সুপরিচিত লাভ।

এই দিনে চাকমাদের ও ত্রিপুরা ঘরে ফুল সাজিয়ে রাখে এবং নদীতে খালে ফুল পূজা বা ভাসিয়ে পুরানো বছর কে বিদায় নতুন বছর কে বরণ এবং স্বাগম জানাই। চাকমা ত্রিপুরা সাধারণত এদের কোন জল কেলি উৎসব পালন করে না।

পার্বত্য চট্রগ্রামের বসবাসরত প্রধাণ বড় উৎসব মহা সাংগ্রাইং পোওয়ে সকলে মনে প্রাণে আপন ভালোবাসা দিয়ে মনে প্রাণে নেয় এটা দেখা যায়। এই Water fastival সাংগ্রাইং জল কেলি উৎসব যুবক যুবতীদের কাছে জনপ্রিয় এবং প্রধাণ উৎসব হিসেবে পালন করতে দেখা যায়। যুবক যুবতীরা সন্ধ্যা বেলায় বিহারে দলে দলে গিয়ে প্রথমে গৌতম বুদ্ধের সন্মুখে কাছে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও পঞ্চাশীল প্রাথর্ণা করে থাকে।

এর পর গৌতম বুদ্ধের নামকরন দিয়ে শত শত ফানুস উড়িয়ে পালন করে থাকে এই যুবক যুবতী মারমা সম্প্রদায়রা। মারমা সম্প্রদায়দের জল কেলি উৎসব ঐতিহ্যবাহী অনেক পুরানো ও গৌতম বুদ্ধের আর্দশ হয়ে যুগ যুগ ধরে প্রথা অনুযায়ী পালিত হচ্ছে। এবারে সকল কার্য্যক্রম জাগজমাট ভাবে উৎসব পালনের প্রশাসন ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এখন সুত্র জানা যায়, যার যার ঘরে অবস্থান হয়ে নিজ পরিবারবগর্কে নিয়ে গৌতম বুদ্ধের কাছে উপাসক উপাসিকা সহ যুবক যুবতীদেরকে পঞ্চাশীল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রাথর্ণা মধ্যে দিয়ে পালন করতে হবে।

সব্বে স ত্তা সুখীতা হোন্ত, জগতে সকল প্রাণী সুখী হউক।