দান করাটাই হচ্ছে মূখ্য বিষয়: মেহজাবীন

বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, নিয়েছে মহামারীর রূপ। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের থাবায় স্হবির হয়ে পড়েছে শোবিজ অঙ্গনসহ সবকিছু। এমন পরিস্থিতিতে অসহায়, দিনমজুরদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন সংগঠন, শিল্পী ও তারকারাও।

কেউ বা অসহায়দের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে অন্যদেরকে উৎসাহিত করতে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের কিংবা ত্রাণের ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকেই সহায়তা করেছেন কিন্ত সেটা একান্তই গোপনে।

অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে অসহায় শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একটি ফান্ড গঠন করেছেন। সেখানে অনেক স্বচ্ছল শিল্পীই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থদান করেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম জানিয়েছিলেন স্বচ্ছল শিল্পীদের অনেকেই সহায়তা দানে এগিয়ে আসেন নি, যাদের তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশের ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে সব শিল্পীদের এগিয়ে আসা উচিত ছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এমন কথার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম সারির নাট্যতারকাদের নিয়ে বিভিন্নরকম সমালোচনা হয়। দেশের এমন পরিস্থিতিতে তারা কেন অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন নি, এ নিয়ে অনেক কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় জনপ্রিয় নাট্য অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, আমি শুরু থেকেই সংগঠনটির পাশে রয়েছি, এখনও আছি। তাদের আহবানে অসহায় শিল্পীদের সাহায্যার্থে অনুদানও দিয়েছি বেশ কিছুদিন আগে।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি দান করাটাই হচ্ছে মূখ্য বিষয়, যে যেভাবেই করুক না কেন। এখন দেশের একটা খারাপ সময় যাচ্ছে, এসময় সবারই উচিত অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো। আমিও সেটাই করছি।

এখন কে কিভাবে দান করছেন, সেটা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ। সেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কেউ প্রকাশ্যে দান করে সে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিচ্ছেন আবার অনেকে অন্তরালে থেকেই ঠিক সেই কাজটি করে যাচ্ছেন। এসময়ে মানুষদের পাশে দাঁড়ানোটাই সবচেয়ে বড় কথা, প্রকাশ্যে আনাটা না।

আমরা বলিউড শিল্পীদের মত দান করার ক্ষমতা রাখি না যে কোটি কোটি টাকা দান করে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাবো। আমি আমার সাধ্যমত সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

হয়তো সেটা লোক দেখিয়ে করছি না তাই এত সমালোচনা হয়। আর সমালোচনা তো নতুন কিছু নয়, এটা সবসময়েই হয়ে আসছে।

অভিনয় শিল্পী সংঘের সংগঠনে অনুদান দেওয়ার বাইরেও আমি কলাকুশলীদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি, সাহায্য করেছি।

এটি ছাড়াও নৃত্য সংগঠনের পাশেও দাঁড়িয়েছি। আমি যেহেতু কয়েক বছর ধরে নাচ করছি, সেই সংগঠনের সদস্য হিসেবে সেখানের জুনিয়র শিল্পীদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। যাতে জুনিয়র ছেলে মেয়েরা এই দুঃসময়ে একটু ভালো থাকে।

আমার নাচের গুরু ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ভাইয়ের সাথে সম্মিলিতভাবে নৃত্য সংগঠনটির সাথে যুক্ত থেকে সহযোগিতা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করি যেটার নাম ‘হাসি ফাউন্ডেশন’। এটা শুরু করেছি বেশ কয়েকবছর আগে। এই সংগঠনটির মাধ্যমে আমি অসহায়, দুঃস্হ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করে আসছি আড়ালেই।

এটা কখনও সামনে আনতে চাই নি। সংগঠনটিতে প্রায় ২৩ হাজারের মত সদস্য রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার। এদের মাধ্যমেই সহযোগিতা করি।

দেশের এখন করোনা পরিস্হিতিতেও এই সংগঠনটির মাধ্যমে আমি দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষদের সাহায্য করছি আমি ও আমার সংগঠনের সদস্যরা এবং সেটা একদমই অন্তরালে।

সেই সদস্যরাও যথেষ্ট পরিমানে আমাকে সাপোর্ট করছে অসহায় মানুষগুলোর কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে।

এখন মানুষের বিপদে মানুষকে সহায়তা কারাটাই খুব দরকার। আমি যেটা করে আসছি। এটা নিয়ে কখনও প্রচার চাই নি আমি। আমি বলবো, সমালোচনা না করে এখন মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত সবার।

আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার পাশাপাশি আরও অনেক শিল্পীও সেটা করছেন, আমি যতদূর জানি। সমালোচনা না করে আসুন মানুষের পাশে দাঁড়াই।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের