রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম তিন দফা বেড়েছে

রমজানকে সামনে রেখে দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম অন্তত তিন দফা বেড়েছে। এতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে আবারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দাম আরও বেড়ে যাবে। জানা গেছে, করোনাভাইরাস আতঙ্ক পুঁজি করে মার্চের মাঝামাঝি কারসাজির কারণে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম ও র‌্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে পেঁয়াজের আড়ত-পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালায়।

দাম কারসাজির অপরাধে জেল-জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে দাম নিয়েন্ত্রণে আসে। কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমে আসে পেঁয়াজের দাম। তবে গত সপ্তাহ থেকে ফের অস্থির হতে শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। ধাপে ধাপে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

রামপুরা বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনা খায়রুল হোসেন বলেন, করোনার শুরুতে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম। সেই পেঁয়াজ ফুরিয়ে গেছে। রমজানও চলে এসেছে। তাই বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসেছি। কিন্তু বাজারে আবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনছি।

জুয়েল নামের আর এক ক্রেতা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ব্যবসায়ীদের একের পর এক সুবিধা দিচ্ছে। অথচ এই ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মানুষকে জিম্মী করে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন যেসব পণ্য মজুদ করে

রাখা যায়, সেগুলোর দাম বাড়ছে। যেগুলো পঁচে যায়, মানে শাক-সবজির দাম কিন্তু বাড়ছে না। বরং কমছে। এ থেকেই বোঝা যায় মজুদ করে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাম বাড়াচ্ছেন। শ্যামবাজারে পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল বলেন,

করোনা ভাইরাসের কারণে পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার পণ্যবাহি গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিলেও অনেকে মাল নিয়ে ঢাকায় আসতে চাচ্ছেন না। যে কারণে এখন পেঁয়াজের সরবরাহ কম। যে মাল আসছে তার পরিবহন খরচও বেশি এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।