করোনা রোগীদের জন্য ৩০০ টাকার খাবার ও ১৪ দফা নির্দেশনা

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উন্নত মানের খাবার সরবরাহের জন্য দৈনিক ৩০০ টাকা বরাদ্দসহ ১৪ দফা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

গত ১৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, সচিব এবং অন্যান্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সে আলাপকালে এ দফাসমূহ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

গত ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১৪ দফা উল্লেখ করা হয়।

দফাসমূহ হলো-

>> বিভিন্ন হাসপাতালে বিদ্যমান আইসিইউতে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকবল নিয়োগ দিতে হবে।

>> পিপিই ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুণগত মান ও মূল্য যাচাই করতে হবে, পর্যাপ্ত পিপিই মজুত নিশ্চিত করতে হবে।

>> মরদেহ পরিবহনের ব্যাগ সংগ্রহ করে তা অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে।

>> যে সকল পিপিইর ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে সেগুলো যেন সময়মতো সরবরাহ পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

>> একটি পিপিইর মধ্যে যেন প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্টের সব থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

>> পরিস্থিতি বিশ্লেষণ/পর্যালোচনা করে লকডাউনের সময়সীমা বর্ধিতকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরবর্তীতে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

>> আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে (বেসরকারি) করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

>> হলি ফ্যামিলি হাসপাতালকে (বেসরকারি) করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে হাসপাতালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

>> চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসন ও খাবার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

>> রোগীর খাবারের মূল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ভালো খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

>> গাড়িচালকরা দায়িত্ব পালন না করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

>> পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ক্রয়-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

>> করোনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি অ্যাডভাইজারি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

>> বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকগণ যেন করোনা রোগের চিকিৎসাকালীন সময়ে চাকরি ত্যাগ না করে বা চিকিৎসা সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি প্রদান না করে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করার জন্য বিএমডিসিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।