ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে যে খাবারগুলো

বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি হয়ে মানুষের জীবনকে বির্পযস্ত করছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। আবার দিন দিনই বেড়ে চলেছে মৃত ও আক্রন্তের সংখ্যা। এক মানসিক চাপে আছে সবাই। এই সময় করণীয় শুধু সচেতনতা আর সময়মতো কাজ, ঘুম আর খাওয়া-দাওয়া। যেন যে কোনও রোগ কাছে আসতে না পারে। এই ভাইরাস যেমন মরণব্যাধি তেমনি ক্যানসারও। এই ব্যাধিতে বিশ্বে প্রতিবছর অনেক মানুষ মারা যায়।

তবে এই রোগ সম্পর্কে এখনও কোনও প্রকৃত ও পর্যাপ্ত তথ্য চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের জানা নেই। সেজন্য ক্যানসার সেলকে টার্গেট করা এবং সঠিক প্রতিরোধ বা প্রতিকার উদ্ভাবন সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, অপুষ্টি ক্যানসারের অন্যতম কারণ। ক্যানসার ঠেকাতে ক্যানড ফুড ও চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। পুরুষদের সাধারণত ফুসফুস, পেট, লিভার, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যানসার হয়ে থাকে। আর নারীদের স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস, পেট, কোলোরেক্টাল ও সার্ভিকাল ক্যানসার হয়ে থাকে।

তবে কিছু খাবার রয়েছে যা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। জেনে নিন সেসব খাবারের তালিকা।

হলুদ
হলুদের মূল উপাদান কারকুমিন অ্যান্টি-প্রদাহ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং এন্টি-কার্সিনোজেনিক উপকরণে সমৃদ্ধ; যা ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

টমেটো
লিকোফিন নামক একটি লাল ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ হলো টমেটো। এটি প্রস্টেট, ফুসফুস, স্তন এবং এন্ডোম্যাট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সিতে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ফাইটোকেমিকেল অ্যালগনিক এসিড যা ত্বক, ফুসফুস, ব্লাডার, খাদ্যনালী ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

কমলালেবু
কমলালেবু ও লেবু ফলে শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া বেগুনি, লাল, নীল রঙের ফল ও সবজিতে রয়েছে অ্যানথোসিনিন নামের ফাইটো ইউট্রিয়েন্ট। যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি, ব্ল্যাকবেরি, লাল বাঁধাকপি, বেগুনি আঙ্গুর, টমেটো ও ডালিম ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে।

ব্রোকলি
ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি গ্লুকোসিনোলোটস নামে শক্তিশালী ফাইটোকেমিকেলস সমৃদ্ধ; যা প্রোস্টেট, ফুসফুস, কোলন, স্তন, ব্লাডার, লিভার, মুখ প্রভৃতির ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

রসুন
রসুনের মধ্যে রয়েছে সালফার যৌগ ও অ্যালিয়াম। অন্যান্য সবজির মধ্যকার সালফার যৌগ পাকস্থলি, খাদ্যনালী, কোলন, অগ্ন্যাশয় ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

গাজর
গাজরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির গতি কমায়। গাজরে থাকা অন্যান্য ফাইটো কেমিকেল গর্ভাশয়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

পালংশাক
পালং শাকে রয়েছে লিউটিন, জেক্সানথিন এবং ক্যারোটিনয়েড। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন শস্যদানা ফাইবার এবং জৈব উপাদান লিগন্যাসে সমৃদ্ধ যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

এছাড়া ফাইবারে সমৃদ্ধ বিন এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা যোগায়। সূত্র: এনডিটিভি