চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন ছাত্রলীগ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পেয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের পেকে যাওয়া বোরো ধান কেটে দিচ্ছেন স্ব স্ব উপজেলার ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোন না কোন এলাকায় জমির মালিকদের ধান কেটে দিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া, মীরসরাই, ফটিকছড়ি ও চন্দনাইশের বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকের ধান কেটে দেওয়া হয়।

এদিকে, এ মহামারির সময়ে বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দেয়ায় খুশি এসব এলাকার দরিদ্র কৃষকসহ এলাকাবাসী। আনোয়ারার ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক আবু ছৈয়দ বলেন, ‘জমিতে ধান পেকে গেছে। কয়েকদিন ধরে কাটার জন্য শ্রমিক খুঁজছিলাম। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা মোহছেন আলম তুর্য এর নেতৃত্বে তার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আমার ক্ষেতের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। ধান কেটে দেয়ায় আমার খুব উপকার হয়েছে। আমি উপজেলা ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই।’

জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা বলছেন, ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়ে যাচ্ছে। এদের এই উদ্যোগে আমরা খুশি হয়েছি।

হাটহাজারীর কৃষকলীগ নেতা আরিফ বলেন, বর্তমানে আমাদের এ উপজেলায় ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এটা বিবেচনা করে আমরা এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে টিম করে হতদরিদ্র চাষিদের বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন বলেন, মানবিক যে কোন কাজে ছাত্রলীগ সব সময় পাশে থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আহ্বানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কৃষকদের পাশে থাকার জন্য বদ্ধ পরিকর। যেখানে কৃষকেরা সহায়তা চাইবেন সেখানে তাদেরকে সহায়তা করা হবে। ইতোমধ্যে শতাধিক হেক্টর জমিতে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ধান কেটে দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের এক সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ৬০ হাজারেরও অধিক হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের পেকে যাওয়া বোরো ধান কেটে ঘরে তোলা আমাদের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

শ্রমিক সংকট হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছাত্রলীগ, যুবলীগ মাঠের পাকা ধান কাটছে এমন সংবাদ কৃষকেরা জানাচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে জমি মালিক ও বর্গা কৃষকদের মাঠের পাকা ধান কেটে দিচ্ছে। সবার সহযোগিতায় জেলার মাঠের পাকা বোরো ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।