খাতুনগঞ্জে আমদানীকারক কমিশন এজেন্ট ও ব্রোকারদের যোগসাজশে আদার মূল্যবৃদ্ধি

খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; আমদানিকারক, কমিশন এজেন্ট এবং ব্রোকারদের যোগসাজশে আদার মূল্য বৃদ্ধির প্রমাণ পেল আদালত।

চট্টগ্রাম জেলার মহানগরী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি ও খুচরা বাজার সমূহে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে গঠিত বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করেন।

জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে গঠিত বিশেষ টিমের হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কাট্টলী রাজস্ব সার্কেল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার,সহকারী কমিশনার (ভূমি), আগ্রাবাদ রাজস্ব সার্কেল এই দুজন পবিত্র রমজান মাস জুড়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, রিয়াজুদ্দিন বাজার, পাহাড়তলি সহ বিভিন্ন পাইকারি এবং বৃহৎ খুচরা বাজার সমুহে অভিযান পরিচালনা করবেন। 

পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের হয়ে মাঠে দায়িত্বরত আরো ৮ টি ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল টিম খুচরা বাজারে পণ্যের দ্রব্যমূল্য এবং ভেজাল প্রতিরোধে কাজ করছেন। 

আজকে সকাল ১১ঃ০০ টা থেকে খাতুনগঞ্জ বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং মোঃ আলী হাসান অভিযান পরিচালনা করেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সিএমপি সদস্য এবং র‍্যাব-৭  এর টিম অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

আজকে খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং আলী হাসান র‍্যাব-৭ সদস্য সহ খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আদা, রসুন, পেয়াজ, খেজুর, ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহে, আড়ত, পাইকারি দোকান ও মোকামে অভিযান পরিচালনা করেন। 

খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের পাশাপাশি একই সময়ে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২ঃ৩০ টা পর্যন্ত পাহাড়তলি এবং ফইল্যাতলি বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), আগ্রাবাদ সার্কেল। 

উভয় অভিযানে ১০ টি মামলায় মোট ৮৫৫০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খাতুনগঞ্জ বাজারে অভিযানকালে দেখা যায়, আদার আড়তগুলোতে আমদানি মূল্যের চাইতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে আদা বিক্রি হচ্ছে। হাতেনাতে অধিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আদা বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটের কামাল উদ্দিন ব্রাদার্স কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পাহাড়তলী বাজার ও ফইল্লাতলী বাজারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার পাহাড়তলী বাজারে এক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত দামে আদা বিক্রি, আদা ক্রয়ের রশিদ না থাকা এবং মূল্য তালিকা না থাকায় ১০০০০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সর্বমোট ৫টি মামলায় পাঁচজন ব্যবসায়ীকে মোট ২০০০০হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

আদার বাজারে মাত্রাতিরিক্ত  মূল্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম  র‍্যাব-৭ সহকারে খাতুনগঞ্জের আদা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলো, আড়তগুলোতে সাড়াশিঅভিযান চালায়।

এখানে উল্লেখ্য যে, আমদানি তথ্য অনুযায়ী  বিগত ১ লা জানুয়ারি ২০২০ হতে ২৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত  চট্টগ্রাম ভিত্তিক মোট ৩৫ জন আমদানিকারক মোট ৩১৪৩.৯৫ মেট্রিক টন আদা আমদানি করেছে।

যার কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সহ আমদানি খরচ ২৫২ কোটি ৬১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। এ হিসেবে আদার গড় আমদানি মূল্য কেজি প্রতি  ৮০ টাকার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে যে আদা আমদানি হয়েছে সেগুলোর কেজি প্রতি মূল্য ৯০-৯৫ টাকার মতো।

কিন্তু খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলির বিভিন্ন আড়ত ও মোকামে রেজিস্টার অনুসন্ধানে পাওয়া গিয়েছে যে, বিগত ১৫ এপ্রিলের পর থেকে আদা ব্যবসায়ী চক্র ( আমদানিকারক, ব্রোকার, কমিশন এজেন্ট, আড়তদারগণ) আদার মূল্য বাড়িয়ে ১২৫ টাকা থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকার উপরে নিয়ে গিয়েছেন।

আমদানিকারকগণ বন্দর থেকে সরাসরি দালাল (ব্রোকার), কমিশন এজেন্টদের মাধ্যমে  আড়তদারদের নিকট এসব পণ্য পৌঁছে দেন। মূলত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আদার বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে কতিপয় আমদানিকারক এবং ব্রোকার (দালালদের) যোগসাজশে আদার বাজার মূল্য অস্থিতিশীল হয়েছে।

আজকে খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং আলী হাসান র‍্যাব-৭ সদস্য সহ খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আদা, রসুন, পেয়াজ, খেজুর, ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিযান পরিচালনা শুরু করলে হামিদুল্লাহ বাজার, নবী সুপার মার্কেট, আমির মার্কেট,ইয়াকুব বিল্ডিং, চাক্তাই এলাকার বেশ কিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।

এদের মধ্যে যেসকল প্রতিষ্ঠান গা ঢাকা দিয়েছে তাদের অধিকাংশই আদা ব্যবসায়ী। বিভিন্ন পাইকারি দোকান,আড়ত ও মোকামে বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আদার আমদানিকারকদের সাথে একটি দালাল (ব্রোকার) এবং কমিশন  এজেন্ট চক্র যুক্ত হয়ে আদার বাজার মূল্যে কারসাজি করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট বেশ কয়েকজন আড়তদার জানান, খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন সময়ে আমদানিকারকদের সাথে যোগসাজশ যারা করে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেনঃ

১.আজিজ (মোবাইল নং-01819329983)
২. সিরাজ
৩. কাদের
৪. জিয়াউর রহমান ( 01823717747) 

উল্লেখ্য যে, গত বছর পেঁয়াজের বাজার মূল্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল করার পেছনে জিয়াউর রহমানের যোগসূত্র ছিল। 

জিয়াউর রহমান একজন আমদানিকারক-ও।  খাতুনগঞ্জের হাজী সোনা মিয়া মার্কেটে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের  প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত র‍্যাব-৭ সহযোগে গিয়ে বন্ধ দেখতে পান। মোবাইল কোর্টের উপস্থিতিতে টের পেয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।