ভার্চুয়াল কোর্টে আবেদন করে জামিন পাচ্ছেন আসামিরা

লঘু অপরাধে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী থাকা আসামিরা ভার্চুয়াল কোর্টে আবেদন করে জামিন পাচ্ছেন। তবে সেটা ম্যানুয়ালি হাজির থেকে বেইল বন্ড জমা দিয়েই পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভার্চুয়াল কোর্ট শুধুমাত্র নামে। কাজে সেটি ভার্চুয়াল কোর্ট থাকছে না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মক্কেলদের জামিন পেতে কারাবন্দী আসামিদের আদালত কক্ষে যেতে না হলেও আইনজীবীদের ঠিকই যেতে হচ্ছে। স্ব-শরীরে আদালত কক্ষে হাজির থেকে আইনজীবীদের ম্যানুয়ালি দিতে হচ্ছে বেইল বন্ড। যেটা ছাড়া জামিন পক্রিয়া শুরু হয় না।

এছাড়াও ওকালতনামা সংগ্রহ করতেও কোর্ট ভবনে যেতে হচ্ছে আইনজীবীদের। যারফলে শুধুমাত্র বিচারকগণই নিরাপদে থাকছেন। আইনজীবীদের জন্য নভেল করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

মহানগর দায়রা জজ আদালতসুত্র জানান, তারা আজকে ৮ টি মামলা শুনানির জন্য রেখেছেন। ইতিমধ্যে তিনটির শুনানি হয়ে গেছে। এরমধ্যে দুটি মামলার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। অন্য মামলাটির আবেদন নাকচ করা হয়েছে। নাকচ করা মামলাটি একটি নারি ও শিশু নির্যাতন মামলা। মঞ্জুর হওয়া দুটি মামলার একটি মাদক ও অপরটি নারি শিশু মামলা।

মহানগর হাকিম আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের আদালত এখন পর্যন্ত কোনো মামলার শুনানি করেননি। বিকালে তাদের আদালত ২০ টি মামলার শুনানি করবেন। যে মামলাগুলোর পক্ষে আইনজীবীরা আদালতের কাছে ম্যানুয়ালি বেইলবন্ড জমা দিয়েছেন। তিনি জানান, ভার্চুয়াল কোর্ট ১ ও ভার্চুয়াল কোর্ট ২ নামের দুটি আদালত উক্ত ২০ টি মামলার শুনানি করবেন।

চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবু তাহের বলেন, তাদের কোর্টে আজ ১৩ মে কোনো শুনানি এখন পর্যন্ত হয়নি। বিকালের দিকে হবে। তবে গতকাল ১২ মে চারটি মামলায় জামিন শুনানি হয়েছে।

আইনজীবী মো. আলী আকবর সানজিক বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট ধারণার বাস্তবায়ন আজ না হয় কাল করতেই হতো। এটি এখন করা হয়েছে। তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি পরিপুর্ণ ব্যবস্থা বলা যাচ্ছে না। ভার্চুয়াল কোর্টে ম্যানুয়ালি গিয়ে ড্রপ করতে হচ্ছে বেইল বন্ড। যেটা খুবই অদ্ভুত লেগেছে। এতে আইনজীবীরা বরাবরের মতো ঝুকিতে রয়ে গেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি এএইচএম মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টে ম্যানুয়ালি গিয়ে বেইলবন্ড জমা দিয়ে মক্কেলদের জন্য জামিন চাচ্ছেন আইনজীবীরা তা সঠিক। এছাড়া উপায় নেই। কোর্টে না গিয়ে মক্কেলের জামিন শুনানি করা অসম্ভব। বাংলাদেশে এটি পরিপুর্ণতা পেতে আরও সময় লাগবে।

উল্লেখ্য,লগু মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা আসামীদের জামিনের কথা বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রীম কোর্ট।