জমে উঠেনি পশুর বাজার, খামারে গরুতেই আগ্রহ ক্রেতাদের

ঈদুল আযহার কোরবানিকে ঘিরে এখনও জমে উঠেনি চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট গরুর বাজার। ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকেও গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার খামার থেকেও গরু আনা হয়েছে বিক্রির জন্য। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে বাজারে ক্রেতা সমাগম নেই।

যারা বাজারে না গিয়ে গরু কিনতে চাইছেন, তারা ঝুঁকেছেন ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপের দিকে। সেখানে পোস্ট করা কোরবানির গরু পছন্দ করে মুঠোফোনেই সেরে নিচ্ছেন দর-দাম।

পটিয়ার মইজ্জারটেকের ব্যবসায়ী দিদারুল আলমের ফার্মে এক হাজার কেজি ওজনের একটি গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া তার আছে ৫০ হাজার থেকে দুই-আড়াই লাখ টাকা দামের গরুও।

কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহায় মো. আখতার হোসেনের মালিকানাধীন শাহ আমানত অ্যাগ্রো ফার্মে ৭০ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা দামের গরু পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা মুঠোফোনে যোগাযোগ করছেন প্রতিদিন।

শিকলবাহার ইকবাল হোসেন বালির খামারে আছে ছোট-বড় ২৫টি গরু। এরমধ্যে ‘ফ্রিজিয়ান’ জাতের ৬টি বড় ষাঁড় কোরবানি উপলক্ষে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সাদা-কালো ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩০ মন। বালি এই ষাঁড়টির দাম চাইছেন ১০ লাখ টাকা।

বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আজিজ তার গোয়াল ঘরে লালন-পালন করা প্রায় ৩৫ মন ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের গরু ‘বিজয়’ এর দাম চাইছেন ২৮ লাখ টাকা। গরুটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট চওড়া।

মো. আজিজের দাবি, বিজয়কে তিনি গত ৫ বছর ধরে যত্ন নিচ্ছেন। খাওয়াচ্ছেন ঘাস ও চালের কুড়া, গমের ভুসি, ভুট্টা, বিভিন্ন প্রকার খৈল।

ফয়’স লেক এলাকার জয়তুন ডেইরি ফার্মে একটি হলেস্ট্রেইন ফ্রিজিয়ান গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। এরকম দুটি ষাঁড় ছাড়াও ওই খামারে রয়েছে ছোট-বড় ৫০টি গরু। খামারের মালিক মোহাম্মদ আলীর দাবি, এসব গরু মোটাতাজা করার জন্য কৃত্রিম কোনও খাবার তিনি খাওয়াননি। হলেস্ট্রেইন গরু দুটির মধ্যে ছোটটির দাম পড়বে ১২ লাখ টাকা।

সাগরিকা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার খামারি ও উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা নিজেদের লালন-পালন করা গরু এনেছেন বিক্রির জন্য। এসব গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে আড়াই-তিন লাখ টাকা। তবে কাক্সিক্ষত ক্রেতা মিলছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টির দুর্ভোগ। গরুগুলোকে সুস্থ রাখতেই গলদঘর্ম অবস্থা ব্যবসায়ীদের।

সাগরিকা পশু হাটের ইজারাদারদের একজন মো. জামশেদ খান বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত গরু বিক্রি জমে উঠেনি। আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই বাজার পরিচালনা করছি। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে।

‘এক বছরের জন্য এই বাজার ইজারা নিয়ে এখন লোকসানের আশংকায় আছি। করোনা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে এসেছে’।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ১৪শ গরুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা, পটিয়া ও আনোয়ারা এলাকায় সবচেয়ে বেশি খামার রয়েছে। শুধুমাত্র শিকলবাহা এলাকায় রয়েছে প্রায় ৫০০টি খামার।

গত বছর ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৮৯টি পশু জবাই করা হয়েছে কোরবানিতে। এবারও সমসংখ্যক পশু জবাই করা হবে। এবার ৬ লাখের বেশি পশু স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করা হয়েছে।