বাংলাদেশকে ঈদ উপহার হিসেবে ১০টি রেলের ইঞ্জিন দিল ভারত

ভারত সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ ২৭ জুলাই এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শংকর এবং রেল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রার শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের রেলপথ প্রতিমন্ত্রী শ্রী অঙ্গদি সুরেশ। এসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন লোকোমোটিভ গুলো গ্রহণ করেন।

লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শংকর বলেণ, আমি বাংলাদেশের কাছে ১০ টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত অক্টোবরের ভারত সফরের সময় আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ‘সোনালী অধ্যায়’ রচনা চলমান রয়েছে। বিশ্বের খুব কম দেশের মধ্যেই আমাদের মতো ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের অংশীদারিত্ব আজ এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্রে ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।

আমাদের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা, শক্তি, সংস্কৃতি এবং পরমাণু বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মহাকাশ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানুষে মানুষে শক্তিশালী সম্পর্ক। আপনাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবে, আমরা আপনাদের প্রবৃদ্ধিতে আনন্দিত।

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে নতুন মানদন্ড স্থাপন করেছে। মুজিববর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে জনগণের আত্মনিয়োগ ও বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োাজনীয়তা অনুসারে লোকোমোটিভ গুলিকে যথাযথভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই লোকোমোটিভগুলি বাংলাদেশে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শংকর পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কালোত্তীর্ণ সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ মহামারীতেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গতি হ্রাস না পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, চলমান ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে তিনি এ জাতীয় আরও মাইলফলক অতিক্রম করার প্রত্যাশা করছেন।

রেলপথ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এবং দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে রেল সহযোগিতার তাৎপর্যকে গুরুত্ব দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে স্থল সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য বাধাগ্রস্থ হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব হ্রাস করতে রেল সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করেছে। ব্যয় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব বাহন হিসাবে রেল আন্তঃসীমান্ত পণ্য পরিবহণে সহায়তা করেছে।

জুন মাসে দু’দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মালবাহী ট্রেন চলাচল হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পণ্য এবং কাঁচামাল বহনের জন্য মোট ১০৩টি মালবাহী ট্রেন ব্যবহৃত হয়।

সম্প্রতি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্সেল এবং কনটেইনার ট্রেন পরিষেবাও শুরু হয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।