মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৩-১২-২০১৪ Time:৫:০১ অপরাহ্ণ


chattagrmnews.jpg-2নজরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড় উঠান ডেয়াং পাহাড় এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একমাত্র ধর্মীয় উপসনলয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরাকরি কোন বরাদ্দ এ পর্যন্ত পাওযা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।
জানা যায় পটিয়া উপজেলার বড় উঠান দেয়াং পাহাড় এলাকায় ও পটিয়া সদরের শ্রীমাই খালের পাশে পটিয়া কেন্দ্রীয় ব্যাটিস্ট চার্চ নামের একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপসনালয় রয়েছে তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোন অনুদান পায়নি বলে পাস্টার প্রদীপ দাশ জানিয়েছেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দেড়শ শতাধিক পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে বসবাস করে আসছে। পটিয়ায় রয়েছে প্রাচীন একটি ক্রিস্টান আশ্রম আশ্রমটি ১৯৪৮ সালে কানাডিয়ান এক নাগরিকে অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। বর্তমান দেয়াং পাহাড় মরিয়ম আশ্রম পরিচালনা পরিষদেও দায়িত্ব রয়েছেন ব্রাদার জোয়াকিম সিএসপি, ব্রাদার নেকাব ডি কাস্ট, সিস্টার হাউজিন প্রমুখ। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড় দিন বড়দিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে বলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংগঠক রুডলফ মেলকাম কুইয়া জানান তারা ধর্মীয় উৎসব যাবে শান্তি পুর্ণিভাবে পালন করতে পারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।পটিয়া দেয়াং পাহাড় মরিয়ম আশ্রমের পরিচালক ব্রার্দার জোয়াকিন সিএসপি জানিয়েছেন প্রত্যাক ধর্মের উৎসবে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও আমাদের আশ্রমের জন্য স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী টিপু বলেন, খ্রিস্টান আশ্রমের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য কেউ কোন আবেদন করেনি। আবেদন করলে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়ার জন্য উপজেলা পরিষদেও পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হবে। ধর্মপ্রদেশের অধীনে প্রাচীনতম গির্জা তৈরি হয় সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে। তৎকালীন পর্তুগীজ বসতিতে নগরীর পাথরঘাটা ও বর্তমান পটিয়া উপজেলার দেয়াং পাহাড় এলাকায় নির্মিত গির্জাগুলোকে এ অঞ্চলের প্রাচীনতম মনে করা হয়। পর্তুগীজ খ্রিস্টান ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে প্রথম আগমন করেন ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে এবং বসতি স্থাপন করেন ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে। ভারতের চন্দননগরের ফরাসী মন্ত্রণা পরিষদের সদস্য এম এলবার্টকে ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছিল বাণিজ্যকুঠি স্থপনের জন্য। তিনি চট্টগ্রামের শাসনকর্তা নবাব হাসানকুলি খাঁর শাসনামলে(১৭৪৩-১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ) কর্ণফুলী নদীর তীরে পর্তুগীজ কবরস্থানের কাছে ‘নটর ডম দ্য গাডিলোপ কমকেম গির্জা স্থাপন করেন। এই গির্জাটি ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গনে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এম এলবার্টের বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের চেষ্টাও তখন সফল হয়নি। চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ক্যাথলিক গির্জাটি শহরের পাথরঘাটায় অবসি’ত বলে এটি ‘পাথরঘাটা গির্জা’ নামেও জনগণের কাছে পরিচিত। এই গির্জাটি স্থাপন করা হয় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন। ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্নান্দেজ এস জেও আন্দ্রে বোভে তৎকালীন আরাকান (বর্তমান পশ্চিম মায়ানমার) রাজার আর্থিক সাহায্য নিয়ে ‘সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’ নামে গির্জাটি তৈরি করেন। গির্জাটি ১৬০২ খ্রিস্টাব্দের ৮ নভেম্বর ধ্বংস হয়ে গেলে তার ধ্বংসস’পের উপর ১৮৪৩ সালে নির্মিত হয় ‘পবিত্র জপমালার রানি’ নামে বর্তমান গির্জাটি। ফাদার ফ্রান্সেসকো পটিয়া উপজেলার দেয়াং পাহাড় এলাকায় সেখানকার পর্তুগীজ বসতিতেও ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে একটি গির্জা নির্মাণ করেন যা বর্তমানে ‘মরিয়ম আশ্রম’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের সেক্রেটারি মানিক উইলভার ডিকস্তা জানান, ‘পবিত্র জপমালার রানি’ গির্জার পূর্বদিকে রয়েছে বাংলায় প্রথম খ্রিস্ট শহীদ ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্নান্দেজ এস জে-এর স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। তিনি স্পেনের টলেডোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে। প্রথম খ্রিস্টান মিশনারি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে আগমন করেন ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে। তিনি বাংলায় প্রথম জেসুইট মিশনের প্রধান অধ্যক্ষ ছিলেন ১৫৯৮ থেকে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। ফাদার ফ্রান্সেসকো আরাকানীদের হাতে দাস হিসেবে আটক কিছু শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করায় আরাকানীরা তাকে বন্দী করে। কারাগারে বন্দী অবস্থায় তিনি নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন ১৬০২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর। এই গির্জার পশ্চিম দিকে রয়েছে বিশপ ভবন যা তৈরি হয় ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে। গির্জা ও বিশপ ভবনটি বর্তমানের রূপে সংস্কার করে ও বর্ধিত করে তৈরি করা হয় ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে। গির্জাটির সাথেই রয়েছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের কবরস্থান। এই কবরস্থানে আছে সাধারণ খ্রিস্টানদের পাশাপাশি এই গির্জায় দায়িত্ব পালনকারী ফাদারদের কবর।নগরীর জামাল খান এলাকায় ‘চার্চ অফ দি ইম্যাকিউলেট কনসেপশন’ নামে আরেকটি পুরনো গির্জা আছে যা নির্মিত হয়েছিল ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে, জানান অবলেটস অফ মেরি ইম্যাকিউলেট (ওএমআই) ফাদার অ্যাঞ্জেলো মার্টিন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ‘সেন্ট জোসেফ চার্চ‘ নামের ক্যাথলিক গির্জাটি তৈরি হয় নগরীর পাহাড়তলী এলাকায়। নগরীতে ইংরেজদের প্রথম গির্জা ‘দি ক্রাইস্ট চার্চ’-এর ভিত্তিস’াপন করেন কলকাতার বিশপ ডানিয়েলস। লালদীঘি এলাকায় এর ভিত্তিস্থাপন করা হয় ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর, জানান গির্জাটির সাবেক অনারারি সেক্রেটারি মেম্বার অফ ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) রোনাল্ড ডি বোস। গির্জাটির কার্যক্রম শুরু হয় পরের বছরের বড়দিনে। লালদীঘি এলাকায় গির্জাটিতে শেষবারের মত প্রার্থনা সভা হয় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে। তারপর সেটি নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার জুবিলী রোডে এর বর্তমান অবস্থান । পরে পুরনো গির্জাটি ধ্বংস করে ফেলার আগে এর কাঁচের জানালা, মার্বেল ফ্লোর, বেদি যেগুলো একসময় কলকাতায় প্রো-ক্যাথেড্রালে ছিল সেগুলো নতুন গির্জাটিতে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরো জানান, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জুবিলী রোডের সাত একর জায়গার উপর নির্মিত নতুন গির্জাটির ডিজাইন ও নির্মাণ কাজ তদারক করেন। গির্জাটি ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিমলার গির্জার আদলে ডিজাইন করেন হেনরি ক্রাউচ। আসাম ধর্মপ্রদেশের বিশপ জিসি হেব্বাক গির্জাটি উৎসর্গ করেন ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল।দি ক্রাইস্ট চার্চ পূর্ব বাংলা ধর্মপ্রদেশে যুক্ত হয় ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে। বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনের রাইট রেভারেন্ড জেডি ব্লেয়ার এর প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গির্জাটি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ধর্মপ্রদেশে যুক্ত হয়। এটিপরবর্তীতে চার্চ অফ বাংলাদেশ’র সাথে যুক্ত হয় এবং ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাঙালি বিশপ হিসেবে গির্জাটির দায়িত্ব নেন রাইট রেভারেন্ড বিডি মণ্ডল।