সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি খসরু, সম্পাদক কাজল

সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেলের) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (নীল প্যানেলের) আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুক্রবার (১২ মার্চ) রাত একটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি এএসএম আবদুর রহমান এই ফল ঘোষণা করেন। এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়।

এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি এবং একটি সহ-সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষসহ আটটি পদে বিজয়ী হয়েছেন সরকারদলীয় সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আইনজীবীরা। অন্যদিকে সম্পাদক ও একটি সহ-সভাপতিসহ ছয়টি পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের আইনজীবীরা।

সভাপতি পদে আবদুল মতিন খসরু ২ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নীল প্যানেলের মো. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ১৩২ ভোট। আব্দুল মতিন খসরু ৮৩৬ ভোট বেশি পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্পাদক পদে নীল প্যানেল থেকে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আবদুল আলিম মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ২০৪ ভোট। একই পদে অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ পেয়েছেন ৯৭ ভোট এবং মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮ ভোট।

সহ-সভাপতির দুটি পদের একটিতে নীল প্যানেলের মো. জালাল উদ্দিন ২ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যটিতে ২ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সাদা প্যানেলের মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা।

কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী মো. ইকবাল করিম। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব পেয়েছেন ২ হাজার ১৫১ ভোট।

সহ-সম্পাদকের দুটি পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন নীল প্যানেলের মাহমুদ হাসান, তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট। অন্যটিতে সাদা প্যানেলের সাফায়েত সুলতানা রুমা ২ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া সাতটি সদস্য পদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাহফুজুর রহমান রোমান; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮২৯ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এ বি এম শিবলী সাদেকীন; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮০৭ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত পারভিন কাওসার মুন্নি; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৮ ভোট। চতুর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মিন্টু কুমার মণ্ডল; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৭ ভোট। পঞ্চম হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৫ ভোট। ষষ্ঠ হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত রেদওয়ান আহমেদ রানজিব; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৯ ভোট। সপ্তম হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুনতাসির আহমেদ; তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৭ ভোট।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটার ৭ হাজার ৭২১ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৮৬ জন ভোট দিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাবেক বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়। তার নেতৃত্বে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়।