মিরসরাইয়ে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষক রবিউল হোসেনকে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকন দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি মীরসরাই সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার একজন শিক্ষক। সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষক রবিউল হোসেন একটি শালিসি বৈঠকে আসলে পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকন কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এরই প্রতিবাদে আজ শুক্রবার ১০ (সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মাষ্টার রবিউল হোসেনের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাষ্টার রবিউল হোসেন বলেন, গত বুধবার দুপুরে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া জীবনের শেষ সময়ের হ্রদয় বিদারক ঘটনা বারইয়ারহাট পৌরসভা মিলনায়তনে একটি শালিসি বৈঠকে পৌরসভার সদ্য মেয়র রেজাউল করিম খোকন আমাকে নির্মমভাবে মারধর ও লাঞ্চিত করেছে।মেয়র আমাকে খানকিনির পুত তুই ভিতরে যা।অফিসের ভিতর নিয়ে নাঈম নামে এক চামচা দিয়ে আমাকে বাধার নির্দেশ দেয়।পরে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।আমাকে সামনি সামনি বসিয়ে গালিগালাজ করে।আমাকে খানকির পুত সম্বোধন করে।আমার দুই গালে ও মাথায় থাপ্পর দেয়।এর পর আমি নিজেই বলি আমাকে মেরে ফেল আমার সমস্যা নেই।আমার বেচে থাকার আর কোন অধিকার নেই।আমার ৬৫ বছরের জীবনে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি।যা জনপ্রতিনিধি থেকে যে অপমান পেয়েছি।মেয়র হয়ে সে দানবের মতো আচরন করেছে।আমি তার বাবার বয়সী একজন মানুষকে চরম অপমান করা আমার কাছে মৃত্যুর সমতুল্য।

তিনি বলেন, আমি সমস্যা সমাধানের জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছি।সময় না দিলে একটা রায় দেন আমাদের মনপ্রোত না হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো ।এটা বলার পর আমার উপর শারিরিক নির্যাতন করে মেয়র।আমি চেয়ারের ওপর পড়ে গেলাম।পরে আমাকে অজ্ঞান অবস্হায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারী ম্যাক্স হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে প্রেসক্লাবে এসেছি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন,পঞ্চম দফায় নির্বাচিত বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে রেজাউল করিম খোকন চলতি বছরের ২৩ মার্চ ২০২১ সালে শপথ গ্রহনের পর থেকে সাধারণ মানুষের সারা জীবনের অর্জিত সব সম্পত্তি নিজের মনে করে ভোগের চেষ্টা করছে। স্হানীয় লোকজনকে তার প্রজা হিসেবে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করছে।সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের শিকিভাগ ও সেবা পাচ্ছেনা। শুধু মেয়রের চেয়ারকে পুজি করে খোকন চেয়ারে বসার পর থেকে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।এলাকার মানুষকে সে মানুষ মনে করছেনা।তার হাতে নির্মম ভাবে অত্যাচারিত হয়েও এলাকার মানুষ মুখ খুলছেনা।

মেয়র খোকনের স্বৈরাচারমুলক আচরন,আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাসপাতালের জায়গায় খাল ও নালা খনন ,ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেট উচ্ছেদ,জায়গা সম্পত্তি দখল সহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে মেয়র খোকন ও তার লোকজন।পৌরসভায় এলাকায় প্রবাসীদের জায়গায় জোর করে দখল করে যেমনভাবে ইচ্ছা তেমনভাবে অনিয়ম করছে মেয়র খোকন। বারইয়ারহাট,চিনকি আস্তানা সহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আগের প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন ড্রেন ভরাট করে ঘর তৈরী সহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে নিয়মিত নোটিশ,টাকা আদায় সরকারের নানা তহবিল তশরুপ সহ সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হেনেস্হা মারধর সহ নানাভাবে হয়রানীর অভিযোগ করা হয়েছে পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকনের বিরুদ্বে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শালিসি বৈঠকে একজন শিক্ষক কে মারধর করে রুচিহীন কাজ করেছে মেয়র খোকন।সারাদেশে তার অগনিত ছাত্রকে অপমান করা হয়েছে। তার পিতার সমতুল্য একজন মানুষ ন্যায় বিচার চাইতে মেয়র কার্যালয়ে গিয়ে লাঞ্চিত হয়েছেন।শুধু শিক্ষক নয়,বারইয়ারহাট পৌরসভার ব্যবসায়ী সহ নানা মানুষ মেয়র খোকনের দ্বারা নির্যাতনের শিকার, প্রকাশ্যে চাদা দাবী সহ নানা অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এইসময় মাষ্টার রবিউল হোসেন এর পরিবারের সদস্যরা জানান বারইয়ারহাট এলাকায় সাধারন মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে মেয়র খোকন ও তার লোকজন। তার ভয়ে মেয়র ও তার লোকজনের বিরুদ্বে কেউ কথা বলছেনা।স্হানীয় ওসির কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রশাসনের হাত পা বাধা বলে অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন থানার ওসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আমান,পারভেজ মিয়া,শফিউল আজম প্রমুখ।