পটিয়ায় পোস্ট অফিসের জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে

 U copy(1)তাপস দে আকাশ,পটিয়া: পটিয়া উপজেলার কেলিশহর পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম দীর্ঘ এক যুগ দরে পোস্ট মাস্টার সুনীল দাশের বসত ঘরে থেকে চলে আসছে। এ পোস্ট অফিসের নির্ধারিত ২ শতক জায়গা এক প্রভাবশালী বেখল কওে দোকান নির্মাণ করে ব্যাবসা চালিয়ে আসছে। অথচ ৩৯ বছর এ ভূমির সরকারী খাজনা পরিশোধ করছে পটিয়ার প্রধান ডাকঘর। চট্টগ্রাম-(জিপিও) ও পটিয়া প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায় ,হরি গোবিন্দ ভট্টচার্য্য নামে এক ব্যাক্তি পটিয়া উপজেলার কেলি শহর ভট্টচার্য্যহাটে পোস্ট অফিসের জন্য দুই শতক জায়গা দান করে। ১৯৭৬ সালে এ জাগায় নির্মিত হয় মাটির ঘরে টিনের ছাউনি দিয়ে পোষ্ট অফিস। সে সময়ে পোষ্ট মাষ্টার ছিলেন কেলিশহর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান।১৯৯১ সালে ঘূনিঝড়ে মাটির ঘরের পোষ্ট অফিসটি জরাজীর্ন হয়ে গেলে কেলিশহর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান পূর্নেন্দু কানুনগো পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়। ১৯৯৪ সালে হাবিবুর রহমান মারা যায় সে বছর নিয়োগ পাই সুনীল কান্তি দাশ। ২০০২ সালে নতুন কেলিশহর ইউপি ভবন নির্মানের জন্য পূর্বের ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। সে থেকে এক যুগ দরে সুনীল দাশের বাড়ীতেই ডাক আদান প্রদানের কাজ চলে আসছে। এদিকে ভট্টচার্য্যহাটে পোষ্ট অফিসের নির্ধারিত ২ শতক জায়গা এক প্রভাশালী দখল করে ইট,বালি ,সিমেন্ট দোকান বসিয়ে দিব্ব ব্যাবসা চালিয়ে আসছে।অথচ ৩৯ বছর দরে ২ শতক ভূমির সরকারী খাজনা পরিশোধ করছে পটিয়া প্রধান ডাক ঘর।
ভট্টচার্য্যহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মেম্বার মোঃ ইউনুছ মিয়া বলেন, কেলিশহর ভট্টচার্য্যহাট পোষ্ট অফিসের নির্ধারিত ২ শতক জায়গা কেলিশহ এলাকার আবদুর রহমান দখল করে দোকান নির্মান করে দিব্বি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তিনি এ জায়গায় পাকা ভবন নির্মাণের জন্য কিছু দিন পূর্বে ইট বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী আনে। কেলিশহর এলাকার ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান অবৈধভাবে একটি চক্র রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসল্ওে স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা উদ্ধার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবী জানান তিনি। কেলিশহর পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টার সুনীল কান্তি দাশ (৮২ )বলেন, ১৯৯৪ সালে ৮’শত টাকা ভাতায় পোষ্ট মাষ্টারের নিয়োগ পাই। এক যুগ ধরে আমার বাড়ীতে লোকজনকে সেবা দিয়ে আসছি। আধুনিক পদ্ধতির কারনে চিঠিপত্রের সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। তবে এখন প্রতিদিন চলে আসে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ডাক । গড়ে প্রতিমাসে ২০০-৩০০ সাধারন ডাক ও রেজিস্ট্রি ডাক ৩০০-৪০০ আসে।আমি এসব ডাক রিসিভ করে স্বাক্ষর করে দিলে পোষ্টম্যান আবু তালেব এলাকায় তা বিতরণ করেন।কেলিশহর ভট্টচার্য্যহাটে জরাজীর্ণ পোষ্ট অফিসটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর ইউপি কার্যালয়ে পোষ্ট অফিসের কাজ চালিয়ে ছিলাম।সে খানে নতুন ভবনের কাজ চলার কারনে পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম দক্ষিন ভূর্ষি ইউনিয়নের কেচিয়া পাড়া আমার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসি। পোষ্ট অফিসের জায়গায় দোকান করায় পোষ্ট অফিস আর নির্মিত হয় নি। পটিয়া প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার বেলাল হোসেন জানান,১৯৭৬ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে পটিয়া প্রধান ডাক ঘর এ ২ শতক জাগার জন্য খাজনা প্রধান করছে।আমি নিজে হাতে ২০১৩-১৪ সালে ৬০ টাকা খাজনা পরিশোধ করি।জায়গাটি বেআইনিভাবে দখল করে দোকান করছে।এ জাগায় পোষ্ট অফিস নির্মানের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া দরকার।আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা দেশের জন্য চিন্তা করি না।আমরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। এ ২ শতক জাগায়া দখলমুক্ত করা জন্য চেষ্টা করে কোন কাজ হয়নি। এলাকার সাধারণ জনগনকে এই জাগায় রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।সুনীল দাশ ২০ বছর ধরে পোষ্ট মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করে আসছে।দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কেলিশহর ও দক্ষিনভূর্ষি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার লোকের ডাক সুনীল দাশের বসতঘর থেকেই আদান প্রদান হয়ে আসছে। এ জাগায় দোকান নির্মান কারি আবদুর রহমান বলেন,এ ২ শতক জায়গার আমার বড় ভাই কাছে কাগজ রয়েছে। সে জন্য আমি দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছি।