অপহৃত তিন শ্রমিককে উদ্ধারে মুক্তিপন নিয়ে দর কষাকষি

YOUNUS-WIFEমোঃ আবু মনসুর, প্রতিনিধি ফটিকছড়ি: ফটিকছড়িতে অপহরনের পাঁচদিন পরেও উদ্ধার হয়নি তিন শ্রমিক। তাদেরকে ছেড়ে দিতে বেঁধে দেয়া শর্তের মুক্তিপনের ২৫ লাখ টাকা নিয়ে দরকষাকষি চলছে। মুক্তিপন এবং অপহরনের বিষয়ে কাউকে জানালে অপহৃতদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্র“প (ইউপিডিএফ)। অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তিন লাখ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সুত্র। এদিকে কোন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সাথেও আতংকে কথা বলছেননা অপহৃতের পরিবারের সদস্যরা। তবে এ অপহরনের সাথে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাঙ্গালি জড়িত বলে জানা গেছে। গতকাল অপহৃত এজাহার মিঞার বাড়ীতে গিয়ে খোজ খবর নিতে চাইলে ভয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবস্থা এমন যেন এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেননা। সংবাদকর্মীদেরকে কোন ধরনের ছবি দিতেও রাজি নয় তারা। আতংকে পুরো এলাকায় এখন ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, বুধবার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী চা বাগানের পাশে দুইধ্যা খোলা এলাকার গভীর জঙ্গলে তাদেরকে ডেকে নিয়ে যায় ১০-১৫ জনের এক দল উপজাতীয় যুবক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিন শ্রমিকের ভাগ্যে কি জুটেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।খিরাম এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ইউপিডিএফ ব্যবসায়ী আহমদ ছাপাকে অপহরণ করে। তখন এই এলাকার ২১০ জন বাঙ্গালীর একটি তালিকা প্রকাশ করে ইউপিডিএফ। পর্যায়ক্রমে এদের সবাইকে অপহরেনর পর হত্যা করা হতে পারে বলে শুনেছেন তিনি। ইউপিডিএফ’র অভিযোগ যারা তালিকায় আছে তারা সবাই জেএসএস ও সেনা বাহিনীর সোর্স হিসাবে কাজ করে। ইউপিডিএফ’র বিরোধী কাজ করায় তাদের শাস্তি পেতে হবে। উপজেলার নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ওসমান গনি বাবু বলেন স্থানীয় কিছু বাঙ্গালি সোর্সের কারণে পাহাড়ি সন্ত্রাসী এধরনের অপহরন কর্মকান্ড করছে প্রকাশ্যে। তিনি জানান, গত বছর তারা ইউনুচ নামের এক বাঁশ ব্যবসায়ীকে অপহরনের পর হত্যা করে। গত এপ্রিল মাসে অপহরনের দুইদিন পর লাশ পাওয়া যায় ব্যবসায়ী ইউনুচের। এ ছাড়া গত বছরের ডিসম্বের মাসে অপহরন করা হয় ব্যবসায়ী আহমদ ছাফাকে। মুক্তিপনের বিনিময়ে একমাস পর ছাড়া পান তিনি। গত বছর পাহাড়ী সন্ত্রাসী ইউপিডিএফ এক চাঁদের গাড়ি চালককে গাড়িসহ অপহরণ করে ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। গত বছরের ২০ মে মঙ্গলবার তাকে অপহরণ করা হয়। ক্ষুদ্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খিরাম সেনা ক্যাম্প, ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ইউপিডিএফ-জেএসএস’র চাঁদাবাজি ও অপহরনের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ গাড়ি প্রতি চাঁদা নেয়। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, ইউপিডিএফ’র বার্মাছড়ি এলাকার সামরিক প্রধান সমীর মারমার সেকেন্ড ইন কমান্ড পরথ চাকমার নেতৃত্বে চলছে এসব অপহরন আর হত্যাকান্ডের ঘটনা। উল্লেখ্য গত বুধবার বিকালে এজাহার মিয়া (৪৫), হোসেন বলি (৪৬) ও আইয়ুব বলী (৪২) পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক অপহরনের শিকার হন।
ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন বলেন, অপহৃতদেরকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।