স্কুল পর্যায়ে নির্মিতদেশের প্রথম শহীদ মিনার বোয়ালখালীর কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে

Bikash Nath Feature 07.02.15বিকাশ নাথ,বোয়ালখালী: শহীদ মিনার এবং স্মৃতিস্বম্ভ আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, আমাদের বিপ্লবের প্রতীক, রক্তের স্মৃতিচিহ্ন, ইতিহাস-ঐতিহ্য। পথের ধারে কোন শহীদ মিনার দেখলেই হৃদয়ে মোচড় দিয়ে উঠে। স্বজন হারানো ব্যাথা। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নাই যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। যদি এমন কোন ট্রাজেডি থেকে থাকে তা কেবল আমাদের। বলা যায়, বাংলা ভাষা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও সর্বস্তরে যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এই বিরল সম্মান তাদের জন্য এখনো অনেক স্থানে গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। লক্ষণীয় বিষয় হল, বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা হলে ঘরে বাইরে দেখা যায় বিদেশী পতাকা। অথচ সেদিক থেকে জাতীয় দিবসগুলোতে কচিৎ চোখে পড়ে হাতে গোনা চারটি জাতীয় পতাকা, এ বিষয়ে সরকারিভাবেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এ দূর্ভাগ্যও আমাদের যার বাস্তব উদাহরণ বোয়ালখালীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শহীদ মিনারগুলো। সবদিক থেকে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের গর্বিত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। জানা যায়, ১৯৬৫ সালের ঘটনা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সৈয়দ জালাল উদ্দিনের পরিকল্পনায় এগিয়ে এলেন ছাত্র ইউনিয়ন বোয়ালখালী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জাসদের অন্যতম নেতা সৈয়দুল আলম ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মো. আলী। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনার নির্মাণের সকল প্রস্তুতি সমাপ্ত হল সিদ্ধান্ত মোতাবেক সৈয়দ জালাল উদ্দিনের প্রদত্ত ইট ও তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে পাথর দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শহীদ মিনার নির্মাণকারী দলের অন্যতম সদস্য মো. আলী বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতায় ছিলেন তারা হলেন, শাহজাদা সৈয়দ রেজাউল আকবরী, মরহুম আবুল হোসেন, সৈয়দ নুরুল হুদা, মাহাবুব উল আলম, মরহুম ফরিদ উদ্দিন জালাল, পিযুষ চৌধুরী, মিলন নাথ, যোগব্রত বিশ্বাস, আবদুস সাত্তার, দুলাল মজুমদার, আবুল কালাম আজাদ, মো. ওসমান, এস.এম. ইউছুফ, তসলিম উদ্দিন, জাকির হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রয়াত শিক্ষক কাজী আব্দুল গণি ছাবেরী। সরেজমিনে দেখা যায়, এই শহীদ মিনারটি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মত। মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ও জাতীয় দিবসগুলোতে এ শহীদ মিনারে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, প্রত্যাশী পরিচালিত আকাশ লিটল টিউটোরিয়াল হোম, হোমল্যান্ড গ্রামার স্কুল, কধুরখীল উ/বি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কধুরখীল জগদানন্দ মিশন, আকুবদ-ী নাথপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি, আকুবদ-ী ক্রীড়া সমিতি, আকুবদ-ী গীতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আকুবদ-ী একতা সংঘ। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধ নিবেদনের জন্য সেদিন হতেই সূচনা হয়েছিল সমগ্র বোয়ালখালীতে শহীদ মিনার নির্মাণ।