বান্দরবানের লামায় ১৩টি অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর কারনে ন্যড়া হচ্ছে পাহাড়

bdমোহাম্মদ আলী, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ১৩টি ইটভাটা। এসব ইট ভাটায় বৈধ কোন লাইসেন্স না থাকলেও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন- ২০১৩ কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। আর এতে জ্বালানী হিসেবে প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে হাজার হাজার মন শিশু গাছ। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর এসব ইট ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন| সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ২০১২সালে বান্দরবানের লামা উপজেলার দূর্গম ফাইতং ইউনিয়নে তিনটি বিশাল বিশাল পাহাড় কেটে তৈরি করা হয় ইট ভাটা। এভাবে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা অবৈধ ইট ভাটায় বছরের পর বছর ধরে বনের কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয় জ্বালানি হিসেবে। শুধুমাত্র ফাইতংএ এক ইউনিয়নে রয়েছে অন্তত ১৩টি ইটভাটা। এসব ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই| স্থানীয় জনগন জানিয়েছেন আজিজ নগর এলাকার একজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা জসিম নামত এক ব্যক্তি ১৩টি ইটভাটা মালিকদের কাছথেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আইন প্রয়োগ কারী সংস্থা সহ প্রশাসন ও বন বিভাগকে ম্যানেজ করেছে। এই বিষয়টি নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে কয়েকজন ইটভাটার মালিক ও স্বীকার করেছেন। এই ব্যপারে ঢাকার প্রভাবশালী দৈনিক সহ আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পত্রিকায় স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অজানা কারনে প্রশাসনেরটনকনড়েনি।১৩টিইটভাটার নাম হচ্ছেটিএইচবি, ইবিএম, ইউবিএম, এমবিএম, এফবিএম, এবিএম, এমবিআই, পিবিসি, এবিসি, এবিসি, এসবিডব্লিউ, এসএবি,ও এসবিএম নামের এই ইটভাটা গুলির কোন প্রকার বৈধতা নাই। এই ব্যপারে স্থানীয় মংব্রাচিং মার্মা বলেন এই সব ইটভাটার বিষয়ে কোন কথা বলে লাভনাই। কারন তারা প্রশাসন সহ সকল স্থরের কর্মকর্তাকে ম্যৗানেজ করে রেখেছে। তিনি এই প্রতিনিধিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন সাংবাদিকেরা ম্যানেজ হয়ে গেছে। এই ব্যপারে একজন ইটভাটার মালিক তাদের যে বৈধ কোন কাগজ পত্র নাই সে কথা স্বীকার করে বলেন আপনারা আজিজ নগরের নেতা জসিমের সাথে দেখা করেন লাভ হবে লিখে কোন লাভ হবেনা। বড়জোর ম্যজিষ্ট্রেট এসে ৫শ হা জার টাকা জরিমানা করতে পারেন্ আমাদের ভাটি ও চলবে কাঠপোড়ানোও চলবে। ইটভাটার শ্রমিকেরা জানান প্রতিদিন একটি ইটভাটাতে ৩শ থেকে ৪শ মনের মতন কাঠের প্রয়োজন হয়। এই ব্যপারে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান অবৈধ ইটভাটা গুলোকে তো আর বৈধ করা যাবেনা। তবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। লামা বন বিভাগীয় রকর্মকর্তা শহিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তাদের লোকবল কম থাকায় সেনাবাহিনীর সাহার্য চেয়েছি। এর পরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় জনগনের প্রশ্ন হচ্ছে এত গুলি ইটভাটার যদি কোন লাইসেন্স বা বৈধ কাগজ পত্র না থাকে তবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলি কিভাবে চলে। তারা আরো জানান সরকারের কর্মচারিাই যদি সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর চিন্তা নাকরে তা হলে জনগনের আর কিইবা করার থাকে | স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এ ইউনিয়নে বনাঞ্চল বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। বনাঞ্চলের কাঠ ইট ভাটার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করার কারনে ন্যাড়া হয়ে গেছে এক সময়ের ঘন বনে সমৃদ্ধ পাহাড়গুলো। প্রতিনিয়ত ভাটায় অতিরিক্ত কাঠ বোঝাই ট্রাক চলাচল ও ইট টানার কারনে ইউনিয়নের অধিকাংশ পিচঢালা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। গ্রীস্ম -বর্ষায় এই পথ ধরে চলাচলে স্থানীয় আদিবাসীদের যেন দূর্ভোগের শেষ নেই| জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাe©Z¨ জেলায় ২০০৯ সাল থেকে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব এলাকায় ইটভাটা স্থাপন না করার ব্যাপারে রয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও। তাছাড়া বন ও কৃষি বিভাগের অনাপত্তি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলেও এসব ছাড়ায় চলছে ভাটাগুলো| স্থানীয় বাসিন্দা মংব্রাচিং মার্মা অভিযোগ করে জানান, ভাটার মালিকরা স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে রেখেছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে আর কিছুই নেই, সব শেষ। এসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি| উল্লেখ্য,ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন- ২০১৩ এ উল্লেখ রয়েছে,লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা করলে এক বছরের দন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আবাসিক-সংরক্ষিত-বাণিজ্যিক-বনভূমি-জলাভূমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে এক বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ও জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহারে তিন বছরের কারাদন্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়| খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইট ভাটাগুলোর ২০ থেকে ৩০ গজের মধ্যেই চিবাতলী নোয়াপাড়া ও ছিবাতলী আদিবাসী পাড়ার অবস্থান থাকলেও আইন অমান্য করে আশেপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইট ভাটা। ভাটার শ্রমিকদের তথ্য মতে, একটি ভাটায় দৈনিক গড়ে ৩০০ মণের উপর কাঠের প্রয়োজন হয়। ১৩টি ইট ভাটায় প্রতিদিন পুড়ছে ৩ হাজার ৯শ মন কাঠ। এতে ধ্বংস হযে যাচ্ছে ভাটার আশপাশের বনাঞ্চল। ফলে একসময় ঘন বনে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক বন পরিণত হয়েছে ন্যাড়া পাহাড়ে| এই ব্যাপারে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একটি ইট ভাটার মালিক বেলাল জানান, ইটভাটাগুলোর লাইসেন্স নেই। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কোনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন| পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক শহীদুল আলম বলেন, এই ভাটাগুলোর কোন ছাড়পত্র নেই। জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে শীগ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে | পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি সংরক্ষণ অধিকার আন্দোলনে বান্দরবানের চেয়ারপার্সন জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, বান্দরবানে বছরের পর বছর প্রাকৃতিক বনের কাঠ যেভাবে ধ্বংস করে চলেছে। তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের নীতিবাচক প্রভাবে আমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো|