রামগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানি রফাদফার ৬০ হাজার টাকা শালিসদারদের পকেটে!

imagesমোঃ ছায়েদ হোসেন, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী গত রবিবার স্কুল ছুটির পর বাড়ী যাওয়ার সময় একই গ্রামের মিধাগো বাড়ির লম্পট আনোয়ার উল্যা নামের এক বৃদ্ধ কৌশলে নির্জন সুপারী বাগানে নিয়ে শ্লীতাহানি করে। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে এসে তার মাকে জানায়। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের ভয়ে হাসপাতাল বা থানায় যেতে পারেননি মেয়ের পরিবার। সৃষ্ট ঘটনা গ্রামের প্রভাবশালী শালিসদার মোঃ কামাল লন্ডনী, মোঃ খোকন, মোঃ সূজন, মতিন মেম্বার, সোলায়মান খাঁ, মোঃ লোকা, মোঃ বাচ্ছুর উপস্থিতিতে সোমবার বিকেলে লম্পট আনোয়ার উল্যার ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দেন।আনোয়ার উল্যা তাৎক্ষনিক জরিমানাকৃত টাকা পরিশোধ করে বাড়িতে চলে যায়।আনোয়ার উল্যার প্রবাসী ছেলে হান্নান জানান, রায়কৃত ৬০ হাজার টাকা শালিদারদের নিকট পরিশোধ করেছি। ঘটনাটা আমার বাবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক।শ্লীলতাহানী কারী ওই ছাত্রীর মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, শুনেছি ৬০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। কোন টাকা আমরা এখনও পাই নাই।শালিস । তবে এই রায় আমি সন্তুষ্ট নয়, লম্পট আনোয়ার উল্যা উচিৎ বিচার হওয়া দরকার যেন আমার মেয়ের মত যেন আর কোন মেয়ের এ অবস্থা না হয় ।শালিসদার মোঃ খোকন জানান, জরিমানার টাকা ছাত্রীর নামে ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হবে। বিয়ের সময় তার কাজে লাগবে। গ্রাম্য শালিসরা শ্লীতাহানির বিচারের রায় দেওয়া আইনসম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সামাজিক কারনে করতে বাধ্য হয়েছি।রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ লোকমান হোসেন জানান, শ্লীতাহানির ঘটনার বিষয়টি গ্রাম্য শালিশা বিচার বা জরিমানা করার কোন এখতিয়ার বা আইনী বৈধতা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবল আলম জানান, সৃষ্ট ঘটনায় অভিযুক্ত ও শালিসদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় নয়।