গুচ্ছ গ্রাম বাস্তবায়নের দাবীতে চকরিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ

imagesবি.এ মামুন,চকরিয়া প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রার প্রতিবাদে গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারী সকাল দশটায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি ৭দিনের আল্টিমেটান দেন। চকরিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে একটি বাড়ি, একটি ভিটার দাবীতে শতশত লোকজন সমাবেশে যোগ দেন। উল্লেখ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনার চকরিয়া উচিতার বিল মৌজায় ভিটে বাড়িহীন জনগোষ্টির পূর্নবাসনের জন্য একটি বৃহৎ আয়তন বিশিষ্ট গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রস্তাবিত জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সমাবেশের ডাক দেন বহুল আলোচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এলবিআরপি। জানা যায়, চকরিয়া উচিতার বিল মৌজায় প্রায় ৭’শ একর জমি জেলা প্রশাসকের নামে ১নং খাস খতিয়ানের রেকর্ড চুড়ান্ত রয়েছে। উক্ত জমিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুচ্ছ গ্রাম, ছোট মনি নিবাস, শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্নবাসন সহ বিভিন্ন জন স্বার্থমুলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বনবিভাগ ও ভূমি বিভাগের বিরোধীয় একটি মামলার কারণে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীর গতি হওয়ায় জনস্বার্থমুলক প্রকল্প ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ফাঁশিয়াখালী রেঞ্জ এর বন কর্মচারীরা মামলা উপেক্ষা করে উক্ত জমি ক্ষতিপয় ভূমিদস্যুদের পক্ষে দখল সহায়তা শুরু করলে স্থানীয় জনগণ এর প্রতিবাদ জানান।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী বশিরুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল কাদের বিকম, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা জাফর আলম সিকদার, অধ্যাপক সালাহউদ্দিন খালেদ, উপকূলী জাতীয় পার্টির সভাপতি জামাল উদ্দিন, কাসেম সিকদার, নারী নেত্রী হুমায়রা বেগম ও খুরশিদা বেগম। প্রধান বক্তার বক্তব্যে এলবিআরপির নির্বাহী পরিচালক ফরিদুল আলম জানান, জনহিতকর পূর্নবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন দীর্ঘসূত্রতা করলে বেসরকারি উদ্যোগে গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। এই মহৎ কাজে সমাজের ভিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান তিনি। মানবাধিকার কর্মী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এলবিআরপির পরিচালক নাছিম হাসান, নুরুল আবছার, জসিম উদ্দিন, কবির আহমদ সরকার। এসময় বিশিষ্ট নাগরিকরাও এলবিআরপির দাবীর সাথে একাত্বতা ঘোষনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে শতশত মানুষ মিছিল সহকারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে ৫ দফা দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি দেন এবং দাবী বাস্তবায়নের এক সপ্তাহর আল্টিমেটাম দেন। অন্যতায় অবরোধ ও ধর্মঘট পালনেরও হুশিয়ারী দেন।