বান্দরবানে যক্ষারোগ নিয়ন্ত্রন বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

BRAC pic-23-2-15মোহাম্মদ আলী বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানে ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে যক্ষারোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও চ্যলেঞ্জ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় বান্দরবান সিভিল সার্জনের সভা কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বান্দরবানের সিভিল সার্জন ড: অনুপ দেওয়ান এর সভাপতিত্বে গোল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বাদশা মিঞা মাষ্টার,বান্দরবান সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ড:অংসুই প্রু মারমা,বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর আলম,ব্র্যাক চট্টগ্রাম এরিয়া ম্যানেজার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ব্র্যাক বান্দরবান এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আলা উদ্দীন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন,বান্দরবানে স্বাস্থ্য সেবা পূর্বের তুলনাই বর্তমানে অনেক উন্নত হয়েছে। এখন আর কাউকে বিনা চিকিৎসায় অকালে মৃত্যু বরণ করতে হয় না,দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে,নগরস্বাস্থ্যকেন্দ্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিক,সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নিদির্ষ্ট এনজিও ক্লিনিকে যক্ষার চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি বলেন, তিন সপ্তাহের বেশি কাশি,শরীরের ওজন ও ক্ষুধা কমে যাওয়া,বুকে ব্যাথা ও স্বাস কষ্ট হওয়া,সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা যক্ষার প্রধান লক্ষণ। বক্তারা আরো বলেন যক্ষা রোগের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে এটি একটি সংক্রমণজনিত রোগ তিন সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে কফ পরীক্ষা করা দরকার,কফ পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। যক্ষা রোগীর হাঁচি,কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করতে হবে। পরিবারের কোন সদস্য যক্ষায় আক্রান্ত হলে সেই পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও শিশুদের যক্ষœা পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিতি ক্রমাগত সঠিক মাত্রায় ও নিদির্ষ্ট সময় পর্যন্ত ঔষুধ সেবনের মাধ্যমে যক্ষা সম্পূর্ণ ভাল হয়। গোল টেবিল আলোচনা সভায় অন্যানদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন,সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সা সুই চিং মারমা, সিভিল সার্জন অফিসের সভার সম্নয় কারী বাবু অশেষ বড়–য়া,বান্দরবান গ্রাউস এনজিও প্রতিনিধি অং থুই চিং মারমা,সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মুক্তিযোদ্ধা মিলন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক, লেখক সেলিম আহাম্মদ চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন। ব্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের মুল বক্তব্য হলো পূর্ণ চিকিৎসায় যক্ষা ভাল হয়। ডট্স কার্যক্রমকে সফল করার লক্ষ্যে নাটাব সুশীল সমাজকে আহবান জানাচ্ছে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য। সবার ব্যাপক অংশগ্রহণই দেশের যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছে দিতে পারবে। আসুন সচেতন হয় হই,যক্ষা প্রতিরোধ করি যক্ষা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি। অনুষ্ঠানে প্রজক্টেরের ম্যাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার চিত্র তুলে ধরা হয়,বান্দরবান জেলার বর্তমান জনসংখ্যা- ৪০৯৯৪৩ জন,মোট উপজেলা ০৭ টি,কফ সংগ্রহ কেন্দ্র সংখ্যা ১৬৪ টি,ল্যাবরেটরির সংখ্যা ১৯ টি,স্বাস্থ্য সহকারীর সংখ্যা ১৪৪ জন,স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা (ব্র্যাক) ১৪১ জন,স্বাস্থ্য সেবিকার সংখ্যা-৬৪৪ জন,চলমান রোগী ২২৩ জন। পরে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি গোল টেবিল বৈঠকের সমাপ্ত ঘোষনা করেন।