মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৮-০২-২০১৫ Time:২:৪৫ অপরাহ্ণ


pic -cox (dipan) 27.2.15দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার: সময়মতো পর্যাপ্ত সার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নানান কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত হওয়ার কারণে কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় এবার বোরোর আশাতীত ফলন হবে বলে ধারণা করছেন চাষীরা। এ পর্যন্ত প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না ঘটায় মাঠে বোরোর চাষ দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বিদ্যুৎের লোডশেডিং না থাকায় তারা বেশ উৎফুল্ল হলেও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সেচে জ্বালানিতে পানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা শান্তিতে নেই। প্রত্যাশিত ফলন পেতে কৃষাণ-কৃষাণীরা রাতদিন পরিশ্রম এবং বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন। কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ট্রেনিং অফিসার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম খান বললেন, গেল আমনের চাইতে এবার বোরোর রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও যথাসময়ে সার সরবরাহ ও নিশ্চিদ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকার কারণে কৃষকেরা জমিতে সময়মতো পানি নিষ্কাশন করতে পেরেছেন। বিগত সময়গুলোতে ধান গাছে থোর পড়ার সময় বিরুপ আবহাওয়ার কারণে চাষাবাদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষাবাদে তেমন কোন ক্ষতি হচ্ছে না। উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া উপজেলা সদর সহ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠে ধানের চারা রোপন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার শুধু যত, ভাল ফলন ও বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন চাষীরা। এ প্রসঙ্গে উখিয়ার ঘিলাতলী গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কৃষাণী মরিয়ম খাতুন জানান, অ-বাজি ঝড় ন-পরের দে (বাবাজি বৃষ্টি হচ্ছে না), ঝর পইরলে ভালা ধান অইব (বৃষ্টি পড়লে ভাল ধান হবে)। রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের কৃষক মুফিজুর রহমান জানান, এবার কানি প্রতি (৪০শতকে) ১৫০ আড়িরও অধিক ফলন আশা করা হচ্ছে। বাজারে সারের দাম সহনীয় ও ন্যায্য মূল্যে পাওয়ার কারণে তেমন বেগ পেতে হয়নি।কক্সবাজার সদরের একাধিক কৃষক জানান, বৃষ্টি না পড়ার কারণে সেচের যোগান দিতে বাড়তি জ্বালানী খরচ বহন করতে হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে পানি ঠিক মত উঠছে না। যার কারণে আশানুরূপ ফলন না হলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। নিতান্ত গরীব চাষীরা নিজেরাই সনাতন পদ্ধতিতে গৃহপালিত গরু দিয়ে জমি চাষ করতে দেখা গেছে। তবে সব স্থানেই টেকট্রর দিয়ে চাষ হয়েছে। কৃষকদের দাবী তাদের উৎপাদিত ফলন সরকারিভাবে উচিত মূল্যে ক্রয় করা হলে প্রান্তিক ও বর্গাচাষীরা লাভবান হবেন। তা নাহলে পাড়া-মহল্লায় যেভাবে দালাল ফড়িয়ারা ধান ক্রয়ের জন্য প্রতিবছর ঘুরাঘুরি করে, তাতে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরায় লাভবান হবেন।