চট্টগ্রামে বিশ্বমানের ফাইভ স্টার হোটেল “রেডিসন’ উদ্বাধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

indexচট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামে নির্মিত বিশ্বমানের প্রথম ফাইভ স্টার হোটেল রেডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউ’র যাত্রা শুরু হয়েছে রোববার থেকে। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ হোটেলের উদ্বোধন করেন।উদ্বোধনের সময় আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে হোটেলের আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে ১০ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রে বাণিজ্যিক গুরুত্ব, বন্দর এবং সাগর ও পাহাড়ের মিলনকেন্দ্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিবেচনা করে হোটেলটি নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া বাণিজ্যনগরীতে বিদেশিদের থাকার সুবিধায় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় সেনাবাহিনী হোটেলটি নির্মাণে এগিয়ে এসেছে বলে তথ্যচিত্রে জানানো হয়। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এসময় রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, আমলা, সাবেক কয়েকজন সেনাপ্রধান ও উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিদেশি অতিথিসহ প্রায় এক হাজার গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৮’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নান্দনিক স্থাপত্যের এবং আন্তর্জাতিক মানের ২২ তলাবিশিষ্ট হোটেল রেডিসন ব্লু নির্মাণ করেছে সেনা হোটেল ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড (এসএইচডিএল)। নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় এসএইচডিএল’র সঙ্গে আছে বিশ্বখ্যাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্লসন রেজিডর। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়, প্রায় ৪ দশমিক ১৮ একর জায়গার উপর রেডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউ’ হোটেলে ২৪১টি সুসজ্জিত রুম । এর মধ্যে ২২২টি সুপরিসর রুম, ১৩টি জুনিয়র স্যুট, ৪টি এক্সিকিউটিভ স্যুট, ২৮৪ বর্গমিটারের একটি রয়েল স্যুট ও ৩০৪ বর্গমিটারের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট। হোটেলে থাকার রুমগুলো নির্মাণ করা হয়েছে অষ্টম তলা থেকে বিশ তলার মধ্যে। প্রতিটি রুম থেকেই নগরীর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। হোটেলের কক্ষ থেকে আছে সাগর এবং পাহাড় দেখার সুযোগ। উপভোগ করা যাবে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্যও। হোটেলের ছাদ জুড়ে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির চমৎকার একটি সুইমিং পুল। এছাড়া একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট এবং একটি রয়েল স্যুটের জন্য রয়েছে আলাদা দুইটি ছোট সুইমিং পুল। রয়েছে শপিং জোন, বার, স্পা, জিম, পার্লার, সেলুন, ৬টি ট্রিটমেন্ট রুম ও হেলথ ক্লাব। প্রায় দেড় হাজার লোকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান করার জন্য প্রথম ও চতুর্থ তলায় দু’টি হলরুমও আছে। প্রতিটি হলরুমের আয়তন দুই হাজার এক’শ বর্গমিটার। হোটেলে তিনটি আর্ন্তজাতিক মানের রেস্টুরেন্ট এবং দু’টি বার। হোটেলের তৃতীয় তলায় ফরাসি রেস্টুরেন্ট, পঞ্চম তলায় ইন্ডিয়ান ও বাঙালি খাবার, ২০ তলায় আছে ইটালিয়ান রেস্টুরেন্ট। হোটেলের ভেতরে আছে দু’টি টেনিস কোর্ট। প্রায় ৯৮ হাজার বর্গমিটারের এই হোটেলে আছে প্রায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা। আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আছে ইলেকট্রনিক্স ডোর এবং সিসিটিভি। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত রেডিসন থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের দূরত্ব মাত্র ৪০ মিনিটের । এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হোটেলটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে সরাসরি রামুতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে আসেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে আসেন রেডিসন হোটেলে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ফিরে যান।