নড়বড়ে সাকোঁতে ৪২ বছর

stদেলোয়ার হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): দুই পাশে দুটি বড় গ্রাম। মাঝে একটি ভঙ্গুর খাল। খালের ওপর একটি নড়বড়ে সাকোঁ দিয়ে ৪২ বছর ধরে যাতায়াত করছেন দুই গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। ফলে সাকোঁ থেকে পরে গিয়ে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। অনেকে হয়েছেন আহত। গত এক বছরে বানু বালা দাশ নামে এক নারী নিহত হয়েছেন আর গুরুতর আহত হয়ে দুঃসহ সৃ¥তি বয়ে বেড়াচ্ছেন অন্তত পাঁচজন। তবুও যাতায়াত করছেন ওই সাকোঁ দিয়ে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই পথে চলাচল করতে হয় তাঁদের। ৪২ বছর পার হলেও একটি সেতু জোটেনি চট্টগ্রামের সীতাকু-ের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রামের জেলে পাড়ার বাসিন্দাদের। গত রোববার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মদনাহাট খালের ওপর বাঁশ দিয়ে নির্মিত সাকোঁটিতে একাধিক মানুষ চলাচলের সময় কড়কড় করে আওয়াজ তুলে। সাকোঁটির দুই পাশের মাটি ধসে গেছে।স্থানিয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খালের দুই পারে অন্তত ৫০০ পরিবারের বসবাস। নিজেরা পারাপারের জন্য তাঁদের ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে সাকোঁটি নির্মান করেন। প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের প্রবল ¯্রােতে খালের পাড় ধসে যায়। সাকোঁটির দুই প্রান্তের মাটিও সরে যায়। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মাটি সরে গেলে গ্রামের লোকজন চাদা তুলে মাটি ভরাট করেন। মাঝে মাঝে সাকোঁটি মেরামত করেন। গত এক বছরে এ সাকোঁ থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন বানু বালা দাশ নামে এক নারী। আহত হয়ে বাঁ পা দুভাগে ভেঙেছে জোতিশ দাশ, রঞ্জিত দাশের ডান হাত, যুথি রানি দাশের বাঁ হাত, রানী বালা দাশের ডান হাত বাঁ পাশের বক্ষের নিছে ও বাসন দাশের বাঁ হাত। জোতিশ দাশ বলেন, ভেবে ছিলাম বাঁচবনা। তবু ঈশ্বর বাঁচিয়ে রেখেছে। পা ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার লোকজন থেকে চাদা তুলে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে পা চিকিৎসা করা হয়েছে। এখনো পুরোপুরি ভাল হয়নি।’ জেলে পাড়া সর্দার জগদীশ দাস (৬৫) বলেন, ৪২ বছর আগে সন্দ্বীপের ভিটে বাড়ি সাগরে ভেঙে যায়। তখন এ গ্রামে এসে ঘর বাঁধেন তিনি। সে থেকে আজকের এদিন পর্যন্ত সাকোঁ দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। কত সাংসদ, চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। সবার কাছে ধরণা দিয়েও সেতু নির্মান করাতে পারেননি। রঞ্জিত দাশ বলেন, ‘ভোটের আগে যে আসে সে বলে নির্বাচিত হলে সেতু নির্মান করবে। কত ভোট গেলো সেতু হলনা।’ স্থানীয় বাসিন্দা বিমল দাশ জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান লোহার সেতু নির্মানের উদ্যেগ নিয়েছিলেন। জাহাজভাঙা কারখানা থেকে অনেক পাইপও যোগান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন জানি আর হয়নি। সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর উদ্দীন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, খালের প্রশস্থ বেশি হওয়ায় সেতু নির্মান করতে হলে অন্তত তিন কোটি টাকার প্রয়োজন। তাই তিনি বিভিন্ন জাহাজভাঙা কারখানার সহযোগীতা চান। অনেক কারখানা পাইপ দিয়েছিলেন। যা এখনো ওই এলাকার ইউপি সদস্যের জিম্মায় আছে। কিন্তু নির্বাচন এসে যাওয়ায় কাজটি ঝিমিয়ে য্য়া। স্থানীয় সাংসদের সুদৃষ্টি পড়লে হয়ত এ বছর সেতুটি নির্মান করা যাবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। যাতে দ্রুত সেতু নির্মান করা যায়।
স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, তিনি ওই সাকোঁটির অবস্থা দেখেছেন। ওই স্থানে সেতু নির্মানের জন্য একটি ফাইল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন। ফাইলটি পাস হলে দ্রুত সেতু নির্মান করা হবে বলে তিনি জানান।