ইংল্যান্ডকে হারিয়েই স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

Crick1-1425903778ক্রীড়া প্রতিবেদক: জয়ের জন্য তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১২ বলে ১৬ রান। আর বাংলাদেশের ২ উইকেট। উত্তেজনায় কাঁপছে তখ গোটা বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে বাংলাদেশ?শত প্রশ্ন আর শঙ্কায় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের গায়ের প্রতিটা লোম তখন দাঁড়িয়ে গেছে! বোলিংয়ে আসলেন রুবেল হোসেন। আর এসেই একি দেখালেন রুবেল! প্রথম ৩ বলেই দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প উপড়ে দিলেন গতিময় এই পেসার। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসে নাম লেখাল বাংলাদেশ।ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপের ১৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়লেন টাইগাররা। আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রহর গুণতে শুরু করলেন ইংলিশরা।সোমবার বিশ্বকাপের ৩৩তম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ৭ উইকেটে করা ২৭৫ রানের জবাবে ২৬০ রানে ইনিংস গুটিয়ে যায় ইংলিশদের। ইংলিশদের ২৭৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা যদিও ভাল ছিল না বাংলাদেশের। ১৯.৫ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। তবে এরপর মুহূর্তেই ইংলিশদের ইনিংসের গতিপথ পরিবর্তন দেন রুবেল হোসেন। এক ওভারেই ইয়ান বেল ও ইয়ান মরগানের উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের ভীষণ চাপে ফেলেন দেন রুবেল। বেলকে (৬৩) মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরানোর পর মরগানকে সাকিবের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।এরপর দ্রুতই জেমস টেলরকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ১৩২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ইংলিশরা তখন ধুঁকছিল। জশ বাটলারকে নিয়ে জো রুট প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাদের ৩১ রানের জুটি ভাঙেন মাশরাফি। রুটকে (২৯) মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তিনি।তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৮৬ বলে ১১৩ রান। সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওয়াকসকে ঘুরে দাঁড়ান বাটলার। এক সময় মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত মনে তীরে এসে আবারো তরী ডুববে বাংলাদেশের। ২৬ বলে তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৮ রান। তবে ইনিংসের ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে বাটলারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাসকিন। আর পরের বলেই ক্রিস জর্ডানকে রানআউটের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশের জয়ের উজ্জল সম্ভাবনা তৈরি করেন সাকিব।এক পর্যায়ে ১৫ বলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২০ রান। আর তখনই তাসকিনের বলে ক্রিস ওয়াকসের তুলে মারা সহজ ক্যাচটি ছেড়ে দিলেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম। মুহূর্তেই ১৬ কোটি বাঙালির হৃদয় যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল! কিন্তু কে জানতো, সে ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে অপেক্ষা করছেন রুবেল।ইনিংসের ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই ব্রডের স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন রুবেল। তার পরের বলটি জেমস অ্যান্ডারসন কোনোমতে ঠেকিয়ে দিলেন। তবে তৃতীয় বলটি আর পারলেন না। বুঝে ওঠার আগেই দারুণ এক ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন রুবেল। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ। আর আনন্দের জোয়ারে ভাসলেন রাজনৈতিক অস্থিরতার জর্জরিত বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। হবেই না বা কেন? বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এদিন জ এটাই!অবশ্য বাংলাদেশের এমন আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারতো সকালেই। অ্যাডিলেড ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উইকেটের প্রকৃতি বুঝে ওঠার আগেই বিদায় নেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। জেমস অ্যান্ডারসনের পর পর দুই ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দুই টাইগার ওপেনার। দুজনই যেনই এদিন পণ করে নেমেছিলেন। দুজনেরই সংগ্রহ ২ রান করে!দলীয় ৮ রানেই ইমরুল-তামিমের উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের তখন মুমূর্ষু অবস্থা। তবে তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ। সেই সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে সৌম্য-মাহমুদউল্লার ৮৬ রানের জুটিই মুমূর্ষু দলকে অক্সিজেন যোগায়।দলীয় ৯৪ রানে ক্রিস জর্ডানের একটি বাউন্সার বলে উইকেটরক্ষক জশ বাটলারের গ্লাভসবন্দি হয়ে বিদায় নিতে হয় সৌম্যকে। ৫২ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করেন সৌম্য। সৌম্যর বিদায়ের পর স্কোরবোর্ডে ৫ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন সাকিব আল হাসান। মঈন আলীর বলে স্লিপে জো রুটের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে মাত্র ২ রান করেন সাকিব।
দ্রুতই সৌম্য ও সাকিব সাজঘরে ফিরলে পঞ্চম উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১৪১ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ২৪০ রানে রানআউটের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। তবে তার আগেই ১৩৮ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০৩ রান করেন তিনি।১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন মুশফিক। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে ব্রডের বলে কভারে জর্ডানের হাতে ধরা পড়েন তিনি ( ৮৯)। ৭৭ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মুশফিক। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। আর এই সংগ্রহই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিল।