মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৩-০৮-২০১৪ Time:১:২২ অপরাহ্ণ


 

বিপুল অংকের রাজস্ব ফাঁকির কারনে এই পর্যন্ত ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমস আইনের ২০২ ধারায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্থগিত করে ৬০১ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বন্ড কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। আর অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় এ পর্যন্ত বন্ড লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে ১ হাজার ৬০৯টি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া সরকারের পাওনা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এছাড়া লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে আরো ১৬শ’ প্রতিষ্ঠানের।
কাস্টমস বন্ড নিয়ন্ত্রিত মোট ৫ হাজার ৯৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ হাজার ৯শ’ প্রতিষ্ঠানই সরকারের বড় অংকের রাজস্ব আত্মসাতে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ২ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা বলে দাবি বন্ড কর্তৃপক্ষের।
প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে বন্ড প্রতিষ্ঠানের সঠিক তদারকি সম্ভব না হওয়ায় এমন অরাজকতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ২৮৪ হলেও বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে আছেন মাত্র ১৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে রাজস্ব লিকেজ বেড়ে গেছে ভয়াবহভাবে। বন্ড লাইসেন্সধারীদের অবৈধ সুবিধা দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনেকেই কলাগাছ বনছেন আঙুল ফুলে।
জানা গেছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির পর অধিকাংশ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানই কালোবাজারে পণ্য বিক্রির গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। তাই অধিকাংশ বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ভয়াবহ রাজস্ব লিকেজে জড়িয়ে পড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে বন্ড কমিশনার ড. মোঃ সহিদুল ইসলাম এর বক্তব্য, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ, শুল্ককর ফাঁকি প্রতিরোধে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায়। সব ক্ষেত্রেই তদারকি ও জবাবদিহিতা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিপুল অংকের রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সব বন্ড প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে তদারকি সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া শত শত প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অডিটের বাইরে রয়ে গেছে, যা রাজস্ব লিকেজের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
সূত্র বলছে, বিতর্কিত বন্ড কমিশনার হাফিজুর রহমানের সময় ঢাকা বন্ড কমিশনারেট দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। তিনি অর্থের বিনিময়ে গণহারে বন্ড লাইসেন্স ইস্যু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কার্যত সে সময়ে লাইসেন্স পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বাস্তবে অস্তিত্বহীন। সরকারের বিশাল অংকের রাজস্ব ক্ষতি করে নিজের আখের গুছিয়ে এই দুর্নীতিবাজ কমিশনার এখন বিদেশে চলে গেছেন। শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও জালিয়াতিসহ বহু অভিযোগে একাধিক কমিটি তদন্ত করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন গত সপ্তাহে হাফিজুর ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী তলব করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমান কমিশনার ড. সহিদুল ইসলাম যোগ দিয়েই বন্ড কমিশনারেটের ইমেজ পুনরুদ্ধার করে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সীমিত জনবল নিয়েই তিনি বন্ড কমিশনারেটের সর্বত্র তদারকি ও জবাবদিহিতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের তদন্তে দেখা গেছে, শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এক পর্যায়ে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে শত শত প্রতিষ্ঠান।