চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র উদ্ধার: আটক ৭২

Ctg-7নজরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামের ছাত্র শিবিরের ঘাটি হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৭২ জন আটক করেছে। জানাযায় চট্টগ্রাম কলেজে মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে শিবিরকর্মী সন্দেহে ৭২ জনকে আটক করা হয়েছে।মঙ্গলবার দিনগত গভীর রাতে কলেজের সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা হল থেকে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ জানায়, অভিযানকালে কলেজের ছাত্রাবাসের পাশে মাঠির নিচ থেকে একে-২২, থ্রি নট থ্রি, পিস্তল, সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, দেশি বন্দুক এক দো-নলা বন্দুকসহ মোট ৯টি অস্ত্র, ৫টি রকেট ফ্লেয়ার, ৬৫ রাউন্ড গুলি ও ২৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।জানা গেছে, ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ দখলে নেবে এমন গুজবের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরে শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগকে ঠেকাতে শিবির কলেজে অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করেছে এমন তথ্য পেয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ এ অভিযান চালায়।অভিযানের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক-কর্মচারিদের আবাসিক এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে একটি তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টারের পেছনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে মাটি আলগা থাকা একটি ছোট গর্তের সন্ধান পান পুলিশের কনস্টেবল নজরুল ইসলাম। এরপর গর্ত থেকে মাটি সরানো হলে প্রথমে একটি বন্দুক পাওয়া যায়। পরে সাঈদীর মুক্তির ব্যানার মোড়ানো অস্ত্রের একটি বস্তা পাওয়া যায়।বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘নাশকতা চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ শিবিরকর্মীরা কলেজে জড়ো হচ্ছে এমন খবরে রাতভর অভিযান চালিয়ে শিবিরকর্মী সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারিদের আবাসিক এলাকায় তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টারের পেছনে মাটির নিচ থেকে বিভিন্ন ধরণের ৯টি অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হয়। কলেজ থেকে আটক হওয়া ৭২ জন শিবিরের নেতাকর্মীকে কোতোয়ালী ও পাঁচলাইশ থানায় ভাগ করে রাখা হয়েছে।’এদিকে ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজেও অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফের নেতৃত্ব অভিযানে দুইশতাধিক পুলিশ সদস্য গোয়েন্দা পুলিশের এ অভিযানে সহযোগিতা করেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল বলেন অস্ত্র সংরক্ষণ করতে কলেজে অনেক স্টাফ ও শিক্ষক জড়িত রয়েছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।