ঝিনাইদহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমি বিক্রি করে মামলা চালাচ্ছে

indexজাহিদুর রহমান তারিক, স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলায় বিএনপি-জামায়াতের প্রায় ১০/১৫ হাজার নেতাকর্মী একাধিক মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের কেউ বাড়িতে ঘুমাতেও পারেন না। এলাকা ছেড়ে অনেকে অন্য জেলায় আত্মগোপনে করেছেন। আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন গুম হওয়া বা গুপ্ত হত্যার ভয়ে। তৃনমুল পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের বহু নেতাকর্মী আর্থিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে পেড়েছেন। দল করতে গিয়ে অনেকের সংসার প্রায় অচল। মামলা হামলায় জর্জরিত দল দুইটির নেতাকর্মীরা এখন বিচ্ছিন্ন। দিক নির্দেশনা দেওয়ার মতো শক্ত কোন নেতা নেই। সবার মোবাইল বন্ধ। টাকা দিতে হবে বলে আর্থিক দুর্দশাগ্রস্থ নেতাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এদিকে দলীয় ভাবে কোন সহায়তা না পেয়ে মহেশপুর কোটচাঁদপুর এলাকার বহু নেতাকর্মী বাপদাদার পৈত্রিক সম্পত্তি জমি বিক্রি করে মামলা চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে কদাচিত ঝিনাইদহ শহর ছাড়া আর কোন উপজেলায় বিএনপির দলীয় কর্মসুচি তেমন একটা পালিত হয় না। বসন্তের কোকিল খ্যাত মহেশপুরের নেতারা তৃনমুলের কোন খোজ রাখেন না। এমনকি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত নেতারাও। দলীয় কর্মসুচিতে টাকা জোগান হচ্ছে না। সব খানেই যেন ভাটার টান। ফলে তৃনমুলে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দল পরিবর্তন নয় তো সরকারী দলের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলছেন। নেতা কর্মীরা গ্রামে বসবাস করলেও হয়ে আছে নিজ ঘরে পরবাসি। জানা গেছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, মুন্সি কামাল আজাদ, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আলীম, জাহিদুজ্জামান মনাসহ নেতৃত্বস্থানীয়রা এখন আত্মগোপনে। অন্যদিকে দুই বছর ধরে নিরুদ্দেশ রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর ড. মুজাম্মিল হক। টিকি দেখা যায় না জামায়াত নেতা নুর মোহাম্মদ, অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, আব্দুল আলীমসহ অন্যান্যদের। জেলা নেতাদের এই আত্মগোপনের রাজনীতি সাধারণ নেতাকর্মীদের চরম ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। বিএনপি ও জামায়াতের জেলা, থানা, পৌর, ওয়ার্ড এমনকি গ্রামের নেতারাও রয়েছে পুলিশের নজরদারীতে। তাই গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই পালিয়ে রয়েছেন। ঝিনাইদহের পুলিশ অবশ্য মামলাগুলোকে রাজনৈতিকলতে নারাজ। তাদের ভাষায় নাশকতা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই পুলিশের কাজ। তবে নাশকতা সৃষ্টিকালে পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে ধরতে না পারলেও চলমান পুলিশি অভিযানে গ্রেফতারকৃতদেরকে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। পুলিশের সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী অভিযানে শাসকদল খুশি হ। তবে পুলিশ আন্দোলন ও নাশকতা দমনে ঝিনাইদহে সফল হয়েছে। জানা গেছে গত ৬ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ ঘোষণার পর ঝিনাইদহে কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোলবোমা মারার ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনায় মামলা হয়। মামলায় আসামি করা হয় খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমকে। এক মামলায় ঘায়েল হয়ে শহর ছেড়েছেন এ সব নেতারা। এসব মামলার অন্যান্য আসামিদের অনেকেই এক বা একাধিকবার কারাগারে গেলেও আর্থিক ভাবে শক্তিশালী নেতারা জেলের ভয়ে আয়েশি পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন। সুত্র মতে সারা জেলায় ২২ মামলায় বিএনপির ১১০ জন ও জামায়াতের ৯৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন। দুই দল থেকে দাবী করা হয়েছে তাদের ১২শ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ দশ হাজার জনের নামে মামলা হয়েছে।