কবিয়াল রমেশ শীলের ৪৮তম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠিত

Ramesh-3 (2)নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তোলা মানবতার কবিকে বাঁচিয়ে দায়িত্ব আমাদের সকলের
গণআন্দোলন আর সাম্য-মৈত্রীর গান, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপে ও মানবতা, স্বাধীনতা আন্দোলনে কবিতা ও গানে জনগণকে উজ্জীবিত করা, পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে আন্দোলনে জনমত গড়ে তুলে কবিগানের আসরে কবিগান ও পল্লীগীতিকে অবলুপ্তির থেকে রা করে গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তোলা, জীবনের সাধনমগ্নে সুফিবাদের সাধন কেন্দ্র মাইজভাণ্ডারী দর্শণের অনুসারী হয়ে মানবতাবাদী জীবনাদর্শ গ্রহণ করে সুফিবাদের প্রাণ কেন্দ্র মাইজভাণ্ডারী সংগীত রচনা করে এদেশের দ্রাবিড় মানুষের চালচিত্রে কিংবদন্তি হয়ে আছেন কবিয়াল সম্রাট রমেশ শীল মাইজভাণ্ডারী। রমেশ রচিত এসব গানের প্রভাবে লোকসমাজ হতে ক্রমে নাচ গানের অশ্লীলতা ও জৈবিক অনুভূতি বহুলাংশে বিদূরিত হয়েছে। ধর্মীয় তথা আধ্যাত্মিক ব্যাপারে সুরের যে মহা উপকারিতা তা নির্মল আনন্দ ব্যতীত এটা অভ্যন্তরীণ সূè দেহযন্ত্রের ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তার করার মতা রাখে। তাই ধর্মনিরপে ও মানবতার এ কবি’র সৃষ্টিকর্মকে চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখে প্রজন্মের কাছে বাঙ্গালীর সংস্কৃতির প্রাণকে সতেজ রাখতে হবে।গত ২৩ চৈত্র মোতাবেক ৬ এপ্রিল তারিখে ২০০২সালে একুশে পদক প্রাপ্ত উপমহাদেশ খ্যাত লোককবি, কবিয়াল সম্রাট ও মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম গীতিকার রমেশ শীল মাইজভাণ্ডারীর ৪৮তম তিরোধান দিবস উপলে রমেশ সমাধি প্রাঙ্গনে রমেশ ভাণ্ডারের উদ্যেগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে বক্তাগণ এ কথা বলেন। বক্তাগণ আরো বলেন, রমেশ শীলের সমাধি ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে একটি রমেশ চর্চা কেন্দ্র। এতে সরকারী বেসরকারী যে কোন উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে রমেশ ভাণ্ডার কতৃপ কাজ চালিয়ে যাবার অঙ্গিকার করেন।
রমেশ ভাণ্ডার পরিচালনা কমিটির সদস্য রমেশ পুত্র পুলিন বিহারী শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ওবাইদুল হক হক্কানী, সমন্বয়ক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার সভাপতি মরমী গবেষক লায়ন ডা. বরুন কমার আচার্য (বলাই), আতিকুর রহমান আতিক, রনজিত সরকার, মো. আবুল হাসেম ভাণ্ডারী, হাফেজ নঈনুদ্দীন ভান্ডারী, মৌলানা সোলেয়মান সঞ্জয় শীল, ননী গোপাল শীল, সাধন শীল, কল্পতরু শীল পুলিশ সদস্য মো. আশরাফ আলী ও ও মোঃ তাজুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।অনুষ্ঠানে রমেশ রচিত আধ্যত্মিক গান পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী গানের ‘বুলবুল’ খ্যাত সৈয়দ মোহাম্মদ ইউসুফ প্রকাশ টুনু কাওয়ালের ছেলে সৈয়দ নাসির কাওয়াল, ও তবলা বাদক লিটন শীলের তত্বাবধানে রমেশ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও রমেশ শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ এবং সারারাত ব্যাপী কবিগান পরিবেশন করেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা কবিয়াল গণ।