চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬হাজার পুৃলিশ দায়িত্ব পালন করবে

indexএ.এইচ.এম সুমন চৌধুরী,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিএমপি চার হাজার পুলিশ সদস্য চেয়ে আবেদন করে বাড়তি দুইহাজারসহ ৬ হাজার পেয়েছে বলে জানাগেছে।নির্বাচনে কোন ধরনের সন্ত্রাসীমুলক কর্মকান্ড ও নাশকতা রোধে চার বাহিনীর মাধ্যমে নগর পুলিশ কেন্দ্রভিত্তিক চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নগর পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ যে কোন ধরনের সহিংসতা এড়াতে চান। এজন্য চট্টগ্রাম নগরীতে চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েনের জন্য আমরা চার হাজার পুলিশ চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ছয় হাজার ফোর্স পাব বলে আমাদের জানিয়েছে। বাড়তি ফোর্স দিয়ে আমরা আরও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।গত ৩১ মার্চ চার হাজার পুলিশ চেয়ে সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।সূত্রে ‍জানা গেছে, ভোটের দিন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৭১৯ কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।এর মধ্যে প্রথম স্তরে প্রত্যেক কেন্দ্রে থাকবে পুলিশের একজন এস আই, একজন এ এস আই এবং ৬ জন কনস্টেবল থাকবে।দ্বিতীয় স্তরে থাকবে অস্ত্র ও লাঠিধারী ৭ জন আনসার সদস্য।তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে কেন্দ্র ঘিরে থাকবে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের দু’টি আলাদা টিম।
ঝুঁকি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ, অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং অগুরুত্বপূর্ণ সব কেন্দ্রেই থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা। তবে কম ঝুঁকি আছে এমন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কম থাকতে পারে বলে ‍জানিয়েছে সূত্র।এদিকে ছয় হাজার অতিরিক্ত ফোর্স নির্বাচনের একদিন আগে নগরীতে প্রবেশ করবে। তাদের থাকা-খাওয়া নিয়ে এখন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে দামপাড়া ও হালিশহর পুলিশ লাইনে তাদের রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এতে স্থান সংকুলান না হলে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে তাদের রাখা হবে।তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণের জন্য ৭১৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪ হাজার ৯০৬টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ১৫ হাজার ৪৩৭ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে শংকা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলমের সমর্থক বিএনপি নেতারা। কাউন্সিলর পদের নির্বাচনে ইচ্ছুক বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যেও একই আশংকা আছে। একইভাবে ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান নিয়ে শংকা আছে অনেক সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেও।