ইসি ও সরকার এখন অগ্নি পরীক্ষায়: খন্দরকার মাহবুব

Ctg-22চট্টগ্রাম অফিস: সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি ৫ জানুয়ারির মত প্রহসনের নির্বাচন করতে চায় তার পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়সনের সভাপতি ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট খন্দরকার মাহবুব হোসেন। সরকার নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের তালবাহনা করলে পরিনতি ভয়াবহ হবে। সরকার সিটি নির্বাচন দিয়ে সরকার অগ্নি পরীক্ষায় পড়েছে।শনিবার বিকেলে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ চট্টগ্রাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুশিয়ারি দেন। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের সমর্থনে ‘দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি : পেক্ষাপট সিটি নির্বাচন শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।তিনি বলেছেন, ‘গত ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন যে কলঙ্কিত ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এবারো যদি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে চায় তাহলে এর পরিমাণ নাম হবে ভয়াবহ। সিটি নির্বাচনে যদি জনগণের ভোটের মতামতের প্রতিফলন ঘটতে বাধা দেয়া হয় কিংব কোন ধরণের কারচুপি করার চেষ্টা হয় সেখান থেকেই শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন। এই আন্দোলন হবে শেষ যুদ্ধ। সরকার বনাম জনগণের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে হয় বাংলাদেশের জনগণ থাকবে না হয় এই স্বৈরশাসক দেশে থাকবে।ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে মাহবুব বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতারা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি করছেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, শুধু সেনাবাহিনী মোতায়ন করলে হবেনা। প্রতিটি ভোট গ্রহণ কক্ষের ভেতর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। কেননা সেনাবাহিনী কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালন করলেও কেন্দ্রের ভেতর আমাদের সোনার ছেলেরা ব্যালেটে সিল মারা শুরু করবে। কারণ পুলিশ প্রশাসন সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছে।’তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আমরা নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। যখন হরতাল-অবরোধের কারণে সারা দেশের সাথে ঢাকা বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনবিছিন্ন হয়ে হাসিনা সরকারের যাই যাই অবস্থা। ঠিক তখনই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার অভিপ্রায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেয় সরকার। সেটি কোন সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বিএনপিকে বিশ্বের কাছে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেই তারা এই নির্বাচন দিয়েছে। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার দূরদর্শী চিন্তার কারণে সরকারের সেই ফাঁদে পা দেননি। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা এই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিপ্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে খন্দরকার মাহবুব বলেন, ‘আপনি যদি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা করেন। তাহলে দেশে আজ থেকে আর কোন সংকট থাকবেনা। আপনি একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। ঐতিহাসিক পরিবারের সন্তান। তাই বলবো, পৃথিবীর কোন স্বৈরশাসকই বন্দুকের নলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আপনিও ঘুম, খুন করে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।আইনজীবিদের এ নেতা আরো বলেন, ‘সরকার বলছে, দেশে কোথাও হরতাল-অবরোধ হয়নি। তাহলে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে কেন হরতালে হাজার কোটি টাকার বিবৃতি দেন। কেন শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করে জনগণের আন্দোলনকে থামানো যাবেনা। এই তিন সিটিতে জয় লাভের মাধ্যমে সরকারের দমন-পীড়নের জবাব দিতে হবে।মাহবুব আরো বলেন, ‘সরকার জনগণের অংশ গ্রহণে হরতালকে কলঙ্কিত করতে নিজেরাই পেট্রোল বোমা হামলা করে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমিও নাকি পেট্রোল বোমা হামলা করেছি। আমরা যদি সেটিই করতাম তাহলে জনগণের ওপর নয়, সরকারি মন্ত্রী-এমপিদের ওপরই হামলা করতাম। এসব মিথ্যাচার করে জনগণের দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব হবেনা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, সরকারের দমন নীপিড়নের কারণে অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। আমি নিজেও জেল জুলুম সহ্য করেছি। গণতন্ত্র রক্ষার এই আন্দোলনে আপনাদের ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হবে।চূড়ান্ত লড়াইয়ে জেতার জন্য আমাদের এই তিনি সিটি নির্বাচনে অব্যশই জয়ী হতে হবে।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন এক অদ্ভূত নির্বাচনের আয়োজন করছে। মানুষ যখন হাসিনা সরকারের পতনের জন্য আন্দোলনমুখী তখনই উদ্দেশ্য প্রণদিতভাবে তারা একটি নির্বাচন দিয়েছে। এরপরও যখন আমরা নির্বাচনে গেলাম, তখন তারা চাচ্ছেনা আমরা নির্বাচন করি, মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। এই কমিশন পুলিশের আইজির কথায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। তাদের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবারো হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। এরপরও আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন অংশ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে যে নির্যাতন করা হয়েছে। তার জবাব দিতে হবে আগামী ২৮ এপ্রিল ব্যালেট পেপারের মাধ্যমে দেশনেত্রীর মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক ড. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজী, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।
উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরী আরা সাফা।