১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

Monday, 20/04/2015 @ 1:50 pm

107116_1ঢাকা অফিস: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এএইচএম হাবিবুর রহমান।
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গতকাল রবিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাবিবুর রহমানের চাকরির মেয়াদ রয়েছে।তার পদত্যাগপত্র গতকালই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে না পারায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া ব্যাংক পরিচালনায় বাইরের নানা চাপ ছিল, যা মেনে নিতে পারছিলেন না হাবিবুর রহমান। মূলত তিনি নতুন কোনো অনিয়মের দায় নিতে রাজি নন। এ কারণেই নিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।জানা যায়, হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ সময় ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালকের মেয়াদ না বাড়লেও তত্কালীন চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়।পরে এ নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন ও বর্তমানে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের ডিন।অধ্যাপক হাবিবুর রহমান সোনালী ব্যাংকের দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন চাপের মুখে কয়েকটি গ্রুপকে বড় অঙ্কের ঋণ দিতে হয়েছে, যার আদায় নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।নতুন করে একটি গ্রুপ আরো হাজার কোটি টাকার ঋণ আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ব্যাংকিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সোনালী ব্যাংক থেকে পদত্যাগপত্রটি আমাদের হাতে এসেছে। এটি গৃহীত হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে গৃহীত না হওয়ার কারণ নেই। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার আগে আলোচনা করলে বিষয়টি সুরাহা করা যেত।’সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৫-তে উত্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৪ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।২০১৩ সালে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণ ছিল ৩৪,৩৪৫ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে এটা কমে ৩৩,৭২৬ কোটি টাকা হয়েছে। শ্রেণীকৃত ঋণ কিছুটা কমে ৮,২৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। তবে ২০১৩ তুলনায় ২০১৪-তে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় কমেছে ৬৭০ কোটি টাকা। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি রেমিট্যান্স দুটোই আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।