পটিয়ায় ব্যবসায়ীর ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

picনিজস্ব প্রতিবেদক: নিজেই মিলের মালামাল চুরি করে পাওনাদারের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেছে লবন মিল মালিকের পুত্র মিনহাজুর রহমান। বাবা আবু তালেবের ধার দেনা নেয়া সাড়ে ৭৬ লাখ টাকা হজম করতে পুত্র মিনহাজ পাওনাদার আবুল বশরসহ তার পরিবারের সদস্যদের ঘায়েল করতে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। ঘটনাটি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ইন্দ্রপুল লবন শিল্প এলাকায় ২ ব্যবসায়ীর মধ্যে। পটিয়া পৌর সদরের আল্লাই ওখারা গ্রামের আবুল বশরের সাথে পৌর সদরের পাইকপাড়া এলাকার আবু তালেবের সঙ্গে লবন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। আবু তালেবের ইন্দ্রপুল লবন শিল্পে চানঁখালী সল্ট ক্রাসিং এন্ড রিফাইনারী নামে একটি লবন মিল রয়েছে। আবু তালেবের সাথে আবুল বশর পুজি খাটিয়ে লবন ব্যবসা করে আসছিলো। ২০১২ সালে আবু তালেব আর্থিক দৈন্যতায় পড়ে। ২০১২-১৩ সালের জন্য মিলটি ইছহাক মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়ায় দেয়। এরপর ২০১৪ সালে আবু তালেব দফায় দফায় আবুল বশর থেকে টাকা নিয়ে তিনি নিজেই চার পার্টনারকে নিয়ে মিল চালু করে। বিভিন্ন সময়ে আবুল বশর থেকে টাকা নেয়ায় আবু তালেবের ৭০ লাখ টাকা দেনা হয়ে যায়। আবু তালেবের সাথে কথা হয় আবুল বশরকে মিলটি ২০১৫ সালে হস্তান্তর করবে। এ আশ্বাসে আবু তালেব আবুল বশরের পুত্র নাছির থেকেও সাড়ে ৬ লাখ টাকা কর্জ নেয়। কিন্তু ২০১৪ সালের শেষের দিকে মিলটি আবু তালেব অন্যজনের কাছে ভাড়ায় লাগিয়তের চুক্তি করলে আবুল বশর তাদের দেয়া সাড়ে ৭৬ লাখ টাকা ফেরত দাবী করে।
অতপর গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৪ আবু তালেব ইসলামী ব্যাংক পটিয়া শাখার হিসেবে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক ও সিটি ব্যাংক চট্টগ্রাম অনলাইন হিসেবে সাড়ে ৬ লাখ টাকার একটি চেকসহ দুটি চেক দেয়। চেক দুটি আবুল বশরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এলিট ফুট ওয়্যার নামীয় হিসেবে মার্কেন্টাইল পটিয়া শাখায় জমা দেন। প্রদত্ত চেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে আবু তালেবের দুটি হিসেবে কোন টাকা নাই মর্মে ডিজঅনার হয়।
এ ব্যাপারে আবু তালেবের বিরুদ্ধে আবুল বশর ও তার পুত্র নাছির পটিয়া ও চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল আদালতে টাকা আত্বসাতের অভিযোগে চেকের মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পর আবু তালেব ও তার পুত্র মিনহাজ টাকা হজম করতে মরিয়া হয়ে উঠে। আবু তালেব পুত্র মিনহাজকে বাদী করে পটিয়া থানায় আবুল বশরসহ ৬ জনকে আসামী করে একটি মিথ্যা চুরির মামলা দায়ের করে। এছাড়াও চট্টগ্রাম এডিএম কোর্টে একটি মিচ মামলা ও পটিয়া থানায় জিডি অভিযোগ এন্ট্রি করে। এমনকি চুরির মামলা প্রমান করতে বাদী মিনহাজ লবন মিলের পার্টনার ইছহাক মিয়া ও জাহাঙ্গিরের মালিকানাধীন একটি পানির পাম্প ও একটি তেলের মোটর মিল থেকে খুলে নিয়ে সিএনজি করে থানায় নেয় এবং চোরাই মালামাল উদ্ধার দেখিয়ে জব্দ তালিখা তৈরী করে। মিলের মালামাল চুরি করে নেয়ার সময় মিলের ম্যানেজারসহ কয়েকজন শ্রমিক দেখে ফেলে এবং এই বিষয়ে থানায় স্বীকারোক্তি দেয়। এছাড়াও মিলের পার্টনার ইছহাক মিয়া ও জাহাঙ্গির মিলের মালামাল উদ্ধারের জন্য মিনহাজুর রহমানের বিরুদ্ধে লবন মিল মালিক সমিতির সভাপতি বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে উক্ত মিলটি নিয়াজ আহমদ আবু তালেব থেকে ভাড়ায় নিয়ে চালিয়ে আসছে। আবুল বশর একদিকে সাড়ে ৭৬ লাখ টাকা আত্বসাতের খপ্পরে পরে গ্লানিতে ভূগছে অন্যদিকে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হয়রানির সম্মুখীন। তিনি প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।